Thursday, October 17, 2019

Reminiscence : Sunderbans Wildlife Shooting

রোমন্থন : সুন্দরবন এডভেঞ্চার ২০১১

Myself with Icon Films Crew for Animal Planet Documentary Shoot @ Sunderbans
(Ruminating the rare experience of being a part of the 13 day shoot for Animal Planet documentary ( World's Deadliest Towns: The Land of Man-eating Tigers ) as Local Interpreter & AD in 2011. Working with a truly international crew ( Icon Films London ) and the international star presenter & big cat specialist Dave Salmoni ( famous for " Into The Pride ") was a special episode in my life timeline.)

আট বছর আগে আমি তখন একটা আমেরিকান প্রিন্টিং কোম্পানিতে কর্মরত, দুপুরে lunch সারছি তখনই আমার বাল্যকালের এক বন্ধুর (Soumitra Banerjee যার ট্যুরিস্ট কোম্পানির সঙ্গে ফ্যামিলি নিয়ে প্রথম বার সুন্দরবন গেলাম 13.10.19) ফোনে যা বলল শুনে কিছুটা হতভম্ভ হবারই জোগাড়। লন্ডনের Icon Films থেকে একটা টিম আসছিল Discovery র একটা docu-feature করতে আর তাদের প্রয়োজন একজন দোভাষী যার ফিল্ম direction এর অভিজ্ঞতা রয়েছে। যেই tourism company তাদের দায়িত্বে ছিল তাদের মাধ্যমেই এই urgent requirement। ওরা সৌমিত্রকেই প্রথম অফার করেছিল কিন্তু ও তখন ওর নাটকের দল ও ট্যুরিজম সদ্য শুরু করায় ১৩ দিনের সময় বার করা অসুবিধে ছিল। আমার english শিক্ষকতার ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা ছাড়াও কিছু ডিরেক্টরিয়াল কাজে যুক্ত থাকায় ( আমাদের "Scavengers" kolkata Short Film Festival এ সেবারই screen হওয়ার সুযোগ পায় ) ওর জোরাজুরিতে অগত্যা আমি হ্যা বলে দি, পরে অনেক সাধ্য সাধনা করে, দুদিনের মধ্যে আমার সব ক্লায়েন্ট feedback আর follow up ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে বাক্স প্যাট্রা গুছতে শুরু করি। সম্পূর্ণ এক অজানা কাজ, এরকম একটা international প্রজেক্ট, এরকম একটা vital role যেখানে আমার ওপর ওদের ভরসা করতে হবে, সব মিলিয়ে বুক ঢিপ ঢিপ তার সঙ্গে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ!

অবশেষে সেই দিন এলো, আমরা এয়ারপোর্ট থেকে foreign crew কে রিসিভ করে Haldirams এ ব্রেকফাস্ট সেরে দুটো গাড়িতে ভাগ হয়ে সোজা রওনা দিলাম গদখালীর উদ্দেশ্যে। সেখানে যাওয়ার সময় সবার সাথে hi hello আলাপ সারলাম আর যেতে যেতে কিছুটা সহজ হচ্ছিলাম এটা জেনে যে ওরাও আমার biodata দেখে খুশি আর তারপর আমার রোল টা বেশ যত্নের সঙ্গে বোঝানোয়। আমরা গদখালীর জেটিতে পৌঁছতেই আমাদের জন্য একটা ট্যুরিস্ট লঞ্চ অপেক্ষা করছিল। তখনই খেয়াল করলাম আর একটা গাড়িতে পেল্লাই equipment case গুলো, যেটা আনতে তিনজন লোক হিমশিম খাচ্ছিল। আমাদের anchor point ছিল বালি দ্বীপের এক ছবির মতো সুন্দর guest hut।সেখানে পৌঁছতে আমাদের আপ্যায়ন বেশ ভালোই হল শুধু বুজলাম আমার উপস্থিতি কারো কারো কাছে কিছুটা অকিঞ্চিৎকর! 

Lunch সেরে আমরা আলসে রোদে নদীর ধারে আড্ডা মারছি আর পাড়ে দেখছি ছোট ছোট লাল কাঁকড়া তারাও বোদহয় রোদ পোয়াতে সারি দিচ্ছে। হঠাৎই আমার স্বপ্নের মতো সময়টা যেন একটা ফোনে চিমটি কেটে ঘোর বাস্তবে ফিরিয়ে দিল। এতক্ষনে বেশ ভালোই আলাপ জমে গেছিলো আমাদের আর পরের দিন থেকে শুটিং প্লান ও আলোচনা হয়ে গেছিলো। আমার সাথে প্রফেশনাল contract ও sign হয়ে গেছিলো কিন্তু বিধাতা হয়তো অন্যরকম কিছু অভিজ্ঞতা আমার জন্য তুলে রেখেছিলেন। আমি আগেই বলেছি কিছু মুখ প্রথম থেকেই আমার আসাতে মনঃপুত হয়নি সেটা না চাইলেও প্রকাশ করে ফেলেছিল। সেরকমই একজন ট্যুরিস্ট গাইড এসে যখন ফোনটা আমাকে ধরালো অপর প্রান্ত থেকে ভেসে এলো সেই ট্যুরিজম কোম্পানির কর্ণধারের গলা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুনলাম আমি নাকি যথেষ্ট cooperate করছিনা তাই আমার পরিবর্ত হিসেবে অন্য কাউকে পাঠাবে বা ওখানকার গাইডই নাকি আমার জায়গায় কাজ করবে। আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম আর এটাও জানালাম যে আমার অফিসে ১৩ দিনের unpaid leave মঞ্জুর করেছে সব ফর্মালিটি হওয়ার পরই, কিন্তু উনি অনড় আর বললেন পরের দিনই আমার ফেরার ব্যাবস্তা করছেন আমি যেন তল্পিতল্পা গুছিয়ে নি। ফোনটা কেটে আবার ফেরত দিলাম যাকে সে বোধহয় তখন আর উচ্ছাস চেপে রাখতে পারছেনা। আমার চোখ গেল চরের কাঁকরাগুলোর দিকে, দেখলাম তখনও তারা সবাই পাড়ে উঠতে পারেনি, পেছন থেকে কেউ না কেউ টেনে নাবিয়ে দিচ্ছে। একটা চূড়ান্ত হতাশা গ্রাস করলো সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে বড্ড একা মনে হলো।
Our Picturesque Travelers' Hut
সন্ধ্যে বেলা আমি আর table এ খেতে যায়নি, নিজের রুমে বসে ব্যাগ গুচ্ছছি তখনই শুনলাম দরজায় একটা মৃদু knock। ভাবলাম room attendant হবে, গিয়ে খুলতেই দেখলাম Icon Films এর executive producer, Clair Messenger, বললেন " Are you doing well ? Thought you didn't attend the table, may be you are a little off we noticed after lunch ".আমি অবাক হলাম জেনে যে ওরা আমাকে লক্ষ্য করেছে, আমি ওনাকে ভেতরে আসতে বলে একবার বাইরেটা দেখে নিলাম কেউ আবার spy করছে কিনা। আশ্বস্ত হয়ে ওনাকে খুলে সবটাই জানালাম। দেখলাম উনিও আকাশ থেকে পড়ছেন, তারপর যা হলো আমি অতটা আশা করিনি। উনি বললেন যে পরেরদিন ভোর থেকে shoot আর আমাকে নিয়ে ওনারা অত্যন্ত satisfied এর পরে উনি সরাসরি ফোনে ধরলেন ট্যুরিস্ট কোম্পানির মালিককে। এপাশ থেকে অত্যন্ত professionally আমার বিষয় নিয়ে জানতে চাইলেন, আর বেশ বুঝলাম ওপাশ থেকে আমার বিরুদ্ধে যে সব যুক্তি দেওয়া হচ্ছিল তার উত্তরে Claire শুধু বলে যাচ্ছিল " We are happy with Prat we want nobody else now ".তারপর বুঝলাম ওপার থেকে বেশ জোরালো আবেদন হচ্ছে, তখন এই ব্রিটিশ মহিলা বেশ কঠিন কণ্ঠে বললেন, " Well in any way we can't compromise with our schedule and we are very specific about our requirement, it's not the job of a guide " আমি শুনছি আর ভাবছি  কিভাবে এক বিদেশি আমার জন্য আমারই এক স্বদেশীর সঙ্গে রীতিমতো লড়াই করছে। তখনই মনে হল কেন দেশ স্বাধীন হতে এতদিন সময় লেগেছিল। অবশেষে Clair আমাকে আশ্বস্ত করে গেলেন আর dinner table এ আসতে অনুরোধ করলেন যাতে আগামী দিনের shooting plan brief করতে পারেন।

এর পর থেকে যদিন ছিলাম সেই সব অখুশি মুখগুলো একপ্রকার কাষ্ট হাসি আর আগবাড়ানো ভদ্রতা করতে দেখেছি। যদিও আমি প্রতিপদে শত্রুশিবিরে থাকার মতো চোখ কান খোলা রেখেছিলাম, একটা কথা বলতেই হবে, আমার ঘরটা বোধহয় Clairএর নির্দেশেই আমাদের Presenter, Dave Salmoni র সংলগ্ন চাওয়া হয়। রোজ dinner table এর অভিজ্ঞতা এক কথায় অবিস্মরণীয়, কারণ সেখানে এতরকম রোমহর্ষক anecdote শুনেছি যা বোদহয় আর কোনো ভাবেই জানা সম্ভব হতোনা।
DAVE SALMONI : Picture curtesy ANIMAL PLANET
এরকমই অনেক তথ্য জেনেছিলাম যেমন Dave Salmoni ( কানাডিয়ান হিংস্র পশু বিশেষজ্ঞ, বিখ্যাত টিভি স্টার, যার নিজস্য পোষা দুটো বাঘ আছে ) টানা ছয় মাস আফ্রিকার তানজানিযার জঙ্গলে শুধু একটা জীপ, ক্যামেরাম্যান আর লোকাল গাইড নিয়ে একটা সিংহের দলের সাথে কিভাবে কাটিয়েছিল, youtube এ Into the Pride সার্চ করলে দেখতে পাওয়া যাবে সেই সিরিজ। Behind the scenes অনেক কিছুই ঘটে যেটা আরো চিত্তাকর্ষক। এটা জেনেছিলাম যে সিংহ সত্যিই পশুরাজ, খিদে না পেলে সে ব্রুক্ষেপ ও করবেনা আশেপাশে কিন্তু সমস্যা হলো সিংহ ছানাদের নিয়ে, তারা যদি একবার ইচ্ছে প্রকাশ করে বসে সেই তল্লাটে না থাকাই শ্রেয় কারণ তখন তার বাবা মা বদ্ধপরিকর হয়ে আসরে নামবে জুনিয়রকে শিকার শেখানোর উদ্দেশ্যে। এরকমই বাঘ কখনো সোজাসুজি আক্রমণ করেনা, আর চোখে চোখ রাখলে পলক না পড়া অব্দি ঝাঁপাও না। তবে সুন্দরবনের বাঘের ব্যাপারে যথেষ্ট সম্ভ্রম আছে বিশ্বজুড়ে কারণ এরকম ধূর্ত, প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া বিরল দানব আর দুটি পাওয়া যাবেনা পৃথিবীতে। সুন্দরবোনেরই অনেক অজানা তথ্য জানলাম অখিল বাবুর ( নাম পাল্টানো ),আমাদের লোকাল গাইডের কাছে ( যিনি আগে animal poaching এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এখন wild life conservation এর এক সক্রিয় কর্মী ) কিছু প্রচলিত মিথ আছে যেমন মৌলিরা বা মাঝিরা মাথার পেছনে মুখোশ পরে যাতে বাঘ পেছন থেকে না আক্রমণ করে কিন্তু সত্যিটা হলো এই পদ্ধতিটা শুরু হওয়ার পর কিছু দিন মাত্র কাজ দিয়েছিল তারপর বাঘ নিস্পলক চোখ যেদিকে সেদিকেই ঝাঁপায়। সুন্দরবনের বাঘ শিকারের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা ওৎ পেতে বসে থাকতে পারে, শুকনো পাতায় যদি ভুল করে শব্দ করে ফেলে সে রাগে নিজের পায়েই কামড় বসায়। গরু ছাগল মোষ অনায়াসে লোকালয় থেকে মেরে নদী সাঁতরে পার হয়ে যেতে পারে নিমেষে। Reserve area তে নাইলন জাল দেওয়া হয় কারণ বাঘ জালকে কিছুটা সমীহ করে পাচ্ছে তাদের থাবা জড়িয়ে যায় তবুও তারা ভাঁটার সময় জলের স্তর কমলে জালের নীচে দিয়ে অথবা কোনো উঁচু ডিবি পেলে সেখান থেকে লাফ দিয়ে জাল টপকেও লোকালয়ে শিকারে আসে। আমাদের ছোট বেলায় একটা বাংলা tongue twister ছিল বাবলা গাছে বাঘ বসেছে, যেটা জানলাম সত্যি নাকি অনেক সময় বাঘ ছোট তালগাছ বা বাবলাগাছে উঠে শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। জঙ্গলে প্রবাদ আছে যে দক্ষিণ রায়ের ( জঙ্গলে কেউ বাঘ কে নাম ধরে ডাকেনা, তাই বাঘের দেবতা দক্ষিণ রায়ের নাম নেয় ) দেখা পায় বা গর্জন কাছ থেকে শোনে তার আয়ু অর্ধেক হয়ে যায়। গ্রামে বনবিবি (এক লৌকিক দেবী ) পুজো করে মাঝি বা মৌলিরা যখন গুনিনের থেকে অনুমতি নিয়ে জঙ্গলে যায়, বাড়ির স্ত্রীরা বাড়ি ফেরা অব্দি একবেলা খায়, শাঁখা সিঁদুর পরেনা, এমনকি তারা কোনো রকম ঝগড়া ঝামেলাতেও জড়ায় না কারণ তাদের বিস্বাস এতে তাদের পুরুরদের অকল্যাণ হতে পারে।
INTO THE CREEK WHERE WE SPOTTED THE TIGER PAW PRINT
আমার অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলতে পারি, আমরা যারা টিভিতে দেখে অনেক সময় ভাবি Discovery তে যা দেখায় বোদহয় বেসিটাই ক্যামেরার কারসাজি অথবা পুরোটাই scripted আদপে মোটেও নয়। First hand experience থেকে বলতে পারি কি অসম্ভব দুঃসাহসিকতা আর সততা থাকে ( অবশ্যই অনেক scene manipulated থাকে কোনো ঘটনাকে recreate করতে ) বারো দিনের শুটিংয়ের স্মৃতি ঘাঁটলে আজ ও মনে হয় দিনগুলো কত ছোট ছিল, কত ঘটনাবহুল পৃষ্ঠা যেন ঠেসে এত অল্প পরিসরে সাজানো ছিল।
Entering into the Creeks in a small dingy
Forest Authority র permission নিয়ে আমরা একদম core area তে রীতিমত মৌলিদের সাথে মৌচাক ভেঙেছি ( তার আগে মধু শিল্পীদের কাছে ট্রেনিং নিয়েছি ), জেলেদের সাথে ভোরে ( ৩.৩০ নাগাদ ) জোয়ারের সময় জাল ফেলে আবার ভোরে ভাঁটার সময় মিন ধরেছি, গুনিনের কাছে গিয়ে তার থেকে মনত্রপুত কবচ নিয়ে মা বনবিবির কাছে পুজো দিয়ে মাছ ধরার ডিঙিতে খাঁড়িতে গেছি, সেখানে Dave, আমাদের স্টার DOP Mcginty ( Animal Planet এ বিখ্যাত River Monster ছাড়াও শুনেছি স্পিলবার্গ প্রজেক্টেও কাজ করেছেন ), sound recordist শ্রভন ( দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি )ওর সহকারী, মাঝিরা আর অবশ্যই আমি থাকতাম একটা ডিঙিতে, আর দূরে আমাদের লঞ্চের কাছে আমাদের executive producer Claire Messenger( আগেই পরিচয় দিয়েছি ), আর director Luke Wiles ( Award wining documentary & AD filmmaker ) অন্য ডিঙিতে cordless monitor এ পুরোটা নজর রাখতেন আর walkie talkie তে আমাকে আর presenter কে ডিরেক্ট করতেন। 
BEFORE HONEY COLLECTION TRAINING
আমরা আসলে পাঁচটা story ( সত্যি ঘটনা ) নিয়ে কাজ করছিলাম যেখানে বাঘ কিভাবে নয় জঙ্গলে অথবা গ্রামে ঢুকে মানুষ নিয়ে গেছে । এরকম ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষি যারা তাদের interview নেওয়ার দায়িত্ব আমার ছিল আর তারপর গ্রামের মানুষদের দিয়ে সেটা অভিনয় ( recreate ) করতে হতো।এই সব বাঘা বাঘা মানুষদের সামনে আমি যতই কুন্ঠা বোধ করি, ভাবা যায় না ওরা কি ভাবে আমাকে প্রতিক্ষেত্রে আমার মতামত নিয়েছে। ডিরেক্টর আমাকে প্রত্যেক shot এর আগে আমাকে সব বুঝিয়ে দিতেন তারপর on spot আমাকে পরিস্থিতি অনুযায়ী স্বাধীনতা দিয়েছেন। কতরকম বিভিন্ন স্বাদের ছোটগল্প যার একমাত্র নায়ক অথবা খল নায়ক royal bengal tiger। কখনো একই পরিবারে তিন প্রজন্মের সিঁথির সিঁদুর কেড়ে নিয়েছে, কখনো দুই ভাইয়ের এক জনকে ঠকিয়ে জঙ্গলে টেনে নিয়ে গেছে, কখনো কোনো মহিলাকে অতর্কিতে আক্রমণ করেও প্রাণে বেঁচে গেছে বিধাতার বিধানে। এক বৃদ্ধ যে শুধু মশারির ভেতরে ছিল বলে বাঘ সারা রাত পাশে বসে প্রতীক্ষা করে অবশেষে গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়েছে। কখনো বাঘকে জঙ্গলে ছাড়তে গিয়ে সে যাওয়ার আগে এক বনকর্মীকেই টেনে নিয়ে যায়, সেই থেকে ধরা পড়া বাঘকে এখন জলেই ছাড়া হয়। আমরা যখন interview নিচ্ছি অনেক বিতর্কিত বিষয় উঠে আসে, যেমন বনকর্মীদের একাংশ চোরাশিকারীদের সাহায্য করে, জঙ্গলের পশুদের জন্য পাঠানো সরকারি খাদ্যও দুর্নীতি হয়, শুধু তাই নয় একটা তথ্য উঠে এসেছে যে গ্রামের একটা বয়স্ক শ্রেণী জঙ্গলে গিয়ে প্রায়ই বাঘের কবলে পড়ছে আর তাতেই সন্দেহ বেড়েছে যে সরকারি অনুদানের লোভে তাদের পরিবারই এরকম নৃশংস পন্থা অবলম্বন করছে অভাবের তাড়নায়।

Survivors of Man-Eater Attack
আমার কিছু বিশিষ্ট মানুষের ইন্টারভিউ নেওয়ারও সুযোগ ঘটে যেমন তদানীন্তন মন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলী। যখন উনি গোসাবা অঞ্চলে আসেন আর আমাদের সঙ্গে সাক্ষাত হয়, আমাদের ডিরেক্টর আমাকে বলেন একটা প্রশাসনিক viewpoint রেখে interview এর জন্য brief করতে, তখন বেশ মজার একটা ঘটনা ঘটে। আমি ওনাকে জেঠু সম্বোধন করে বলি কি রকম প্রশ্ন করা হবে, তার উত্তরে বলেন যে উনি ইংলিশেই উত্তর দেবেন শুধু ওরা যেটা বলবে আমি যেন সেটা তর্জমা করে বুজিয়ে দিয়ে ( ওনার কথায় কি সব আমেরিকান ইরিং বিরিং করবে তুই বাবা আমাকে একটু ধরিয়ে দিস ) তারপর দেখলাম যে তুখোড় রাজনীতিবিদরা কিভাবে প্রশ্নের উত্তর দেন ( অনেক সময় প্রশ্নের তোয়াক্কা না করেও)। ওনাকে বলেছিলাম খুব ভালো হয়েছে উত্তর, সেই শুনে শুধু মিটিমিটি হেসেছিলেন। এরপর আমরা দুজন বনদপ্তর আধিকারিকের মধ্যে একজনের ইন্টারভিউ নিতে পেরেছিলাম ( সময়ের সল্পতা আর খারাপ আবহাওয়ার জন্য আমরা ঝড়খালী যেতে পারিনি ) আর সেটা নিয়ে পরে আর এক গল্প তৈরি হয়। উপেক্ষিত আধিকারিককে উদ্ধৃত করে খবরের কাগজে ফলাও করে বেরোয় যে এক বিদেশি ডকুমেন্টারি দল নাকি অনুমতি ছাড়াই সুন্দরবন core অঞ্চলে শুটিং করেছে।
MINISTER KANTI GANGULY APPEARING FOR INTERVIEW
একদিনের কথা না বললে কিছুই বলা হবেনা, আমরা সেদিন রাত ৯ টার মধ্যে ডিনার সেরে যে যার ঘরে রেস্ট নিচ্ছি, হঠাৎ কল করে জানান হল আজ আমরা রাতে লঞ্চে কাটাব কারণ ভোর রাতে একটা গুরুত্বপূর্ণ শুট আছে। যে যার কিট গুছিয়ে যখন লঞ্চের ডেক এ জড়ো হলাম এক অপূর্ব অনুভূতি হল। সেদিন বোদহয় পূর্ণিমা বা আশেপাশের সময় ছিল, একটা স্নিগধ আলোয় চারিদিক ভেসে যাচ্ছে, লঞ্চের হালকা ইঞ্জিনের শব্দ ছাড়া চারিদিকে এক নৈশব্দের উৎসব, মাঝে মাঝে ঝি ঝি পোকার ডাক, দূরে কোথাও পেঁচার ডাক। নদীর চিকচিকে জল কেটে যখন আমরা অতি ধীরে খাঁড়ির পাস দিয়ে যাচ্ছি, কোথাও একটা শিয়ালের ডাক যেন সমস্ত নীরবতাকে দ্বিখণ্ডিত করল।
Moonlit Night from Launch Deck
আমরা এই স্বর্গীয় পরিবেশে সবাই যে কতক্ষন নিশ্চুপ ছিলাম বলতে পারবোনা, তবে পাশের জঙ্গল ক্রমশ ঘন হওয়ায় আমাদের গাইড নিচে কেবিনে গিয়ে বিশ্রাম নিতে বলল। কিন্তু ততক্ষনে আমরা মশগুল হয়ে শুনছি Dave এর আফ্রিকাতে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা। ওরা ওখানে Killer Hippos নিয়ে একটা ডকুমেন্টারি করতে গেছিলো। ওর কাছ থেকেই জানলাম আফ্রিকার জঙ্গলে সিংহ বা হাতি নয় সব চেয়ে বেশি মানুষের প্রাণহানি হয় জলহস্তীর কারণে। ওখানকার  মুন্ডারী উপজাতিরা একরকম কালা জাদু বা mumbo jumbo করে যেটা ওখানে লাইভ শুট করা হয়েছিল। সেই গুনীন বা ওঝা নাকি এমনি জাদু করে যে পুরো শুটিং crew এমন বশ হয় যে প্রায় সবাই দুদিনের হিসেব পায়নি। কিছু অবিশ্বাস্য ব্যাপার ঘটে যখন সেই ওঝা এক জীবন্ত ( হাত দিয়ে নাকি হৃৎস্পন্দন বোধ করা যাচ্ছিল ) হিপ্পোর পুতুল Dave কে দিয়ে এক মাটির ঘরের মেঝে থেকে খুঁড়ে বার করায় যার যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা তারা আজও করতে পারেনি। এই কারণেই দেখেছি যেদিন আমরা সুন্দরবনের এক গুনীনের কাছে যাই মধু সংগ্রহের শুটের আগে, Dave বেশ ভক্তি ভোরে সব মন্ত্র উচ্চারণ করে হাতে তাবিজ পরেছে। এমনকি যতজন বাঘের হাতে প্রাণ দিয়েছে তাদের আত্মীয়দের সাথে অথবা যারা বেঁচে ফিরেছে সবাই বলেছে যে সঙ্গে গুনীন থাকলে তাদের নাকি বাঘে কোনো ক্ষতিই করেনা। আমরা যখন গুনীন কে জিজ্ঞেস করি উনি বলেন যে উনি যতবার গেছেন কোনো দুর্ঘটনা হয়নি, জানিনা অন্য গুনীনদের ও একই অভিজ্ঞতা কিনা।
DAVE SALMONI  WITH FISHERMEN RELAX AFTER SHOOT
সেইদিনটার কথা বললে এখনো মনে হয় কোনো এক রোমহর্ষক হলিউড মুভির মতো। সকালটাই সারাদিনের দিকনির্দেশ করে দিয়েছিল। আমরা মাতলা নদীর পাড়ে খাঁড়ির মধ্যে মৎস্যজীবীদের সাথে সেদিন গিয়েছিলাম ভাঁটার সময় কিভাবে ঘূণিতে মাছ ধরা হয় দেখতে। সেদিন Dave খুব খোস মেজাজে ছিল, মাঝিদের থেকে বিড়ি চেয়ে খেয়েছিল সেটা আমি ক্যামেরা বন্দি করেছিলাম ( বলে রাখা ভালো আমাকে ডিরেক্টর আমার ক্যামেরায় কিছু ছবি তুলতে অনুমতি দিয়েছিলেন যদিও সেটা এতদিন পর প্রকাশ করতে আর কোনো বাঁধা নেই ) মাছের জাল তুলতে গিয়ে আমরা সবাই বেশ কিছুটা খাঁড়ির মধ্যে প্রবেশ করি, সবারই পা কাদায় প্রায় হাঁটু ওপর অবধি গেঁথে গেছিলো। পায়ে জুতো থাকা সত্ত্বেও টের পাচ্ছিলাম সুন্দরী গাছের শেকড় কিভাবে বিঁধছে। আমরা আগেও অনেকবারই এরকম খাঁড়ির কাদায় নেমে মৌলিরা কিভাবে গাছ পুজো করে, ধোঁয়া দিয়ে, মৌচাক ভেঙে মধু সংগ্রহ করে শুট করেছি। কিন্তু জানিনা এদিন সকাল প্রায় নটাতেও একটা গা ছমছমে অনুভূতি হয়েছে আর তারপরই আমাদের মধ্যে একজন মাঝি ছুটে গিয়ে একটা ডিবির ওপর বাঘের পায়ের ছাপ আবিষ্কার করে। তার সঙ্গে কিছু হাড় পড়ে থাকতেও দেখে রীতিমত ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। আমরা দলে প্রায় দশজন থাকা সত্ত্বেও কারোরই সাহস হয়নি আর ওখানে থাকার। ডিঙি থেকে লঞ্চে উঠে সবাই একটু স্বাভাবিক হই তারপর Dave ব্যাখ্যা করে যে বাঘটা হয়তো যখন জাল খাটিয়ে যাওয়া হয় তার পরই ওখানে ডিবিতে বসে কোনো বনশুয়র অথবা কোনো ছোট প্রাণী মেরে প্রাতরাশ করে, পরে জোয়ার বাড়লে গভীর জঙ্গলে চলে যায়। যাই হোক এই ঘটনার পর আমরা সবাই একটু বেশিই সতর্ক হয়ে যাই। এরপর লঞ্চেই কাটিয়ে lunch সেরে আমরা আবার মাতলা নদীর ধারে মাঝিদের একজনকে নিয়ে বাঘ চলে যাচ্ছে সেই দৃশ্যের শুট শুরু করি। এদিকে শুটিংয়ের শেষের দিকে যখন বেলা প্রায় চারটে, ঈশান কোনের দিকটা তাকিয়ে প্রকৃতির এক অপরূপ দৃশ্য দেখলাম। আকাশটা গাঢ় নীল থেকে ক্রমশ বেগুনি বর্ণে রূপান্তরিত হচ্ছে। হঠাৎ walkie talkie তে SOS এর মত স্পষ্ট শুনলাম " Pack up storm approaching ". আবারো তড়িঘড়ি করে ডিঙিতে যখন উঠছি বেশ টের পেলাম একটা হু হু করে শীতল বাতাস আমাদের বিপরীতে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এমনিতেই শুনেছি মাতলা অতি ভয়ঙ্কর নদী আর এই অশনি সংকেত পেয়ে যেন আমাদের বোটের নিচে জল মাতাল হয়ে উঠলো। আমি ছোট বেলায় কলাগাছের ভেলায় আমার মামারবাড়ির গ্রামের পুকুরে এপার ওপার করেছি ওইটুকুই কেরামরি। এরকম দোদুল্যমান নৌকোয় আমার বোধোদয়  হলো যে আমার সব শিক্ষাই বেকার, নিজের ওপর ভীষণ রাগ হলো যে কেন বারবার শুরু করেও সাঁতারটা আর শেখা হয়নি। যদিও ওপরে আকাশ তখন ক্রমশ কালচে হয়ে আসছে আর আমিও দেখলাম আমাদের লঞ্চ ও আমাদের ফেলে মাঝ নদীর দিকে এগোচ্ছে। আমরাও আপ্রাণ সাহস সঞ্চয় করে দক্ষ মাঝিদের ভরসায় এগোচ্ছি। মাঝিরাই জানালো বড় লঞ্চ ঝড়ের সময় কিনারায় থাকলে এলোপাথাড়ি স্রোতে উল্টে যেতে পারে। জানিনা কিকরে কখন লঞ্চে আমাদের বোট লাগলো, তখন বড় বড় ফোঁটা নিয়ে মুষলধারে আছড়ে পড়ছে বৃষ্টি সঙ্গে ঝড়ের সোঁ সোঁ গর্জন।এসব সাহিত্যে, সিনেমায় খুব ভালো লাগে কিন্তু ওই পরিস্থিতিতে আমাদের আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড় হয়েছিল। একটা ত্রিপল চারদিক থেকে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছে সবাই অন্যদিক দিয়ে ডেক ভেসে যাচ্ছে জলের তোড়ে। অনেকেই কেবিনে বসে পাশের কাঁচের জানলায় জলের ধাক্কা খাওয়া দেখে বোদহয় যে যার ইস্ট নাম জপ করছে। প্রায় পৌনে এক ঘন্টা ধরে এই তান্ডব চলেছে। আমাদের লঞ্চের বৃদ্ধ চালক ও তার ছেলে ওই বৃষ্টিতেও গলদঘর্ম হয়ে যুদ্ধের শেষে মৌতাতে মন দিল। ওপরে ডেকে উঠে আমরা অবাক। যেন কিছুই হয়নি এমন নির্মেঘ পড়ন্ত বিকেলের আকাশ দেখে মনে হল ঠিক যেন প্রকৃতি আমাদের সাথে মস্করা করে গেছে। আমরা সবাই স্নাক্স আর হালকা ড্রিংক সহযোগে যেন উজ্জাপণ করতে বসলাম নবজীবনের। 
APPROACHING STORM
সন্ধ্যে নেমে এসেছে কিন্ত আকাশে মাঝে মাঝে কিছু ঝলক যেন আমাদের অগ্রিম বিপদের আভাস দিচ্ছে। আমরা সম্পর্ক রাখছিলাম অভিজ্ঞ অখিলবাবুর সাথে কারণ উনিই আমাদের ট্যুরের সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন। উনি জানালেন যে ঝড় চলে গেলেও ভারীবর্ষণ আবার হতে পারে কিন্তু উনি একটু অস্বাভাবিক রকমই জোর করছিলেন যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা ফিরে আসি। এর পর আসল কারণটা যেন কিভাবে আমরা জেনে গেলাম। অখিলবাবু নাকি ঝড় চলাকালীনই আমাদের বারবার ফোনে চেষ্টা করেও পাননি। আসলে ওনার কাছে কোন এক গোপন সূত্রে খবর এসেছে যে foreigner পার্টি কোনদিকে গেছে সেটা নিয়ে বাংলাদেশি একটা ফিশিং ট্রলার নাকি খোঁজখবর করেছে। আসলে জলদস্যু সুন্দরবনে একটা ভয়ের কারণ বিশেষ করে বিদেশি থাকলে আর ওরা নাকি খারাপ আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে পেট্রোলিং কোস্ট গার্ডদের এড়িয়ে তাদের কার্যকলাপ চালায়। এটা জানার পরে আমরা আবার কেবিন বন্দি হয়ে এক অজানা আশঙ্কায় প্রহর গুনতে লাগলাম কখন আমাদের গন্তব্য আসে। এই ফাঁকেই বলে রাখি গ্রামের মধ্যে শুটিং করার সময় এক অতি গায়ে পড়া কবি জুটেছিল। দোষটা অবশ্য আমারই কি কুক্ষণে শুটিংয়ের ফাঁকে কিছু ছেলে ছোকরাদের রসিকতায় প্রশয় দিতে তাকে তার নিজের লেখা কবিতা শোনাতে বলেছিলাম।তারপর থেকে যেন সে opponent teamএর মার্কারের মতো আমার সঙ্গে লেগে থাকতো, যে কোন অছিলায় তার পাঠক বানিয়ে ছাড়তো। এমনিতে ছেলেটা বলেছিল বাংলায় MA, এরপর গ্রামেই ছেলে পড়িয়ে যেটুকু পায় আর শহরের কেউ এলেই তার কবিতা শোনায় কারণ গ্রামে তার এই প্রতিভার দাম দেওয়ার লোক কমই আছে। যাক, আসল কথা থেকে সরে যাচ্ছি। একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তার বাড়িতে কে আছে যার উত্তরে যা শুনেছিলাম বেশ গোলমেলে তাই বিস্বাস করিনি। ও বলেছিল যে ও এখন মামারবাড়িতে থাকে যদিও ওর আসল বাড়ি নাকি সোনারপুর ( কলকাতার কাছে ), বাবা স্কুল মাস্টার ছিলেন। কিন্তু পারিবারিক বিবাদে নাকি খুন হন তাই সে তার মায়ের সাথে সুন্দরবনের মামারবাড়িতে চলে আসে। এখানে জীবিত এখন তার দিদা আর ছোট মামা, বাকি দুই মামা মারা গেছেন। তার মামাদের মৃত্যু নিয়ে যদি কোনো বাঘের story পাওয়া যায় ভেবে জিজ্ঞেস করেছিলাম কারণটা। এর উত্তরে সে বলেছিল তার মামারবাড়ির সবাই নাকি বংসপরম্পরা ধরে ডাকাত, আর তার দুই মামা নাকি বাংলাদেশের জলদস্যুদের হাতে প্রাণ হারায় ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে সমস্যার জন্য। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম তাহলে তার ছোট মামা কি করে, তার উত্তরে সে বলেছিল সে নাকি এখন জেলে, হরিণ মেরে পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। সে আরো বলে যে তার মামারবাড়ির দাদুরা নাকি বেশ দুর্দণ্ডপ্রতাপ ছিল, তাই সুন্দরবনে তাদের চলে যায় সবাই তাদের সমীহ করে সাহায্য করায়। আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছিলো ' ডাকাতির এত সম্মান ?' সে হেসে বলেছিল যে এখানকার ডাকাত নাকি রোবিনহুড, সরকারি সাহায্য কোনোদিন পৌছত না, মাঝ পথেই দালালরা ভাগ করে নিত, তাই নিজেদের প্রাপ্য ছিনিয়ে না নেওয়া ছাড়া পথ ছিলনা। আমরা লঞ্চে ফেরার সময় কেমন একটা ভাবতে দ্বিধা হচ্ছিল যে একজন গোবেচারা শিক্ষিত কবিতা নিয়ে পাগল কেউ কি করে জলদস্যুদের informer হতে পারে ???
Luke ( Director) briefing the scene to Mcginty ( DOP), Shravan our Sound Recordist behind
গ্রামের যাদের দিয়ে আমাকে অভিনয় করাতে হয়েছিল আমাদের তথ্যচিত্রের ঘটনাক্রম চিত্রায়িত করতে সেটা বলতে গেলে একপ্রকার অনন্য অভিজ্ঞতা। পথনাটিকা অথবা পাড়ার পুজোর নাটকের অভিজ্ঞতা অল্প বিস্তর ছিলই, কিছু সর্ট ফিল্মের amateur কাজ নিয়ে যেটুকু সম্বল সেটুকু দিয়ে যে একটা পুরো দস্তুর প্রফেশনাল ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট সামলে দেব নিজেও ভাবিনি। আমাদের মৃদুভাষী ডিরেক্টর Luke Wiles কখনোই আমাকে ভাবতে দেননি যে আমি কোনো চুনো পুঁটি বরং লোকালদের দিয়ে অভিনয় করানোর ব্যাপারে আমাকে পূর্ন স্বাধীনতা দিয়েছেন। এরকমই একটা শুট চলাকালীন চারদিক থেকে গ্রামবাসী ভিড় করে আছে আর আমাদের যেই মহিলা চরিত্র বার বার লজ্জা পেয়ে এক্সপ্রেশন মিস করছেন। আমার হঠাৎই মনে হল যে তার পরিবারে কি কাউকে বাঘ নিয়ে গেছে ? তাকে জিজ্ঞেস করতেই সে বললো এক নিকট আত্মীয় যার বাঘে খাওয়া দেহাবশেষ উনি দেখেছেন ও। শুধু ওটা নিয়ে ভাবতে বলায় ওনাকে আর বলতে হয়নি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বেরিয়ে এসেছে।

এরপর এক হাস্যকর ঘটনার কথা ভাবলে আজ ও পেটে খিল ধরে। এইবার ঘটনাটা এমন ছিল যে বাঘ গ্রামে ঢুকে একটা গোয়ালে আশ্রয় নিয়েছে আর সারা গ্রামবাসী চারদিকে ঘিরে ধরেছে, তারই মধ্যে নেট দিয়ে ঘিরে এক বণদপ্তরের কর্মী ঘুমপাড়ানি গুলি করবে, কিন্তু ফসকে যাবে আর বাঘ লাফিয়ে এক গ্রামবাসীকে ছিটকে পালাবে। এই বার সেই গ্রামবাসী যার ওপর বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়বে তার দৃশ্যের জন্য যাকে পাওয়া গেল তিনি একজন গ্রামের প্রতিষ্টিত পালাগান আর যাত্রা শিল্পী। আমি কিছুটা আঁচ করেছিলাম যে শুধু আর্তনাদ করে ভুলুন্ঠিত হওয়ার রোল পেয়ে একটু অখুশিই ( বিদেশি কাজ করে খ্যাতি পাওয়ার লোভ ও সামলাতে পারছেন না আবার মৃত সৈনিক মার্কা রোলটাও মানতে পারছেন না ) আমাকে তিনি আগ বাড়িয়ে অনুরোধ করলেন যদি কিছু ডায়ালগ রাখা যায়। আমি নিমরাজি হওয়াতে উনি কিছুটা দমে গেলেন কিন্তু ক্যামেরা action, রোল হতেই উনি গগনবিদারী হুঙ্কার ছেড়ে " বাবারে মরি গেলাম " বলে মাটিতে এমন লুটিয়ে পড়লেন যে সমস্ত crew, দর্শক সমস্বরে হাসিতে ফেটে পড়লো আর আমি কাট বলতেও ভুলে গেলাম।
Shooting for Tiger Hunt
এবার আমার পালা, মানে সেও আবার তথ্যচিত্রের নায়কের রোল বলে কথা। এবার গল্পটা এমন ছিল যে একজন বৃদ্ধ রাতে মশারির মধ্যে ঘুমিয়ে থাকবে, এদিকে বাঘ তার পাশেই অপেক্ষা করবে সারারাত ( বলে রাখি বাঘ যে কোন রকম জালকে সমীহ করে কারণ তাদের ধরার সময় আর জঙ্গলেও বেড়া দিতে সেটাই ব্যাবহার হয়। তাই মাঝিরা জঙ্গলে গেলে মশারি খাটিয়ে শোয় ) আর ভোর হলে কিছুর তাড়া খেয়ে মশারি টপকে ধাঁ হয়ে যাবে। এবার শুট করার সময় শিল্পীর সবচেয়ে কাছে আমাকে থাকতে হত, পাশে সাউন্ড রেকার্ডিস্ট, পজিশন মতো ক্যামেরা আর দূরে মনিটরে আমাদের ডিরেক্টর। ঘরটা তেমন বড়ো ছিল না আর Dave এর মত অতিকায় মানুষকে বাইরে থেকেই দর্শকের মতো দেখতে হচ্ছিল। তারপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, লুকের গলা ভেসে এলো ওয়াকিটকিতে " Prat, now please play the lead...I mean you have to jump above the net " এটা বলতেই ক্রিও এর সবাই হেসে congratulate করলো...সত্যি জীবনে প্রথম বাঘের চরিত্রে তাও আবার আমি নয় আমার ছায়ামাত্র । হেসে বললাম ' Shadow acting you mean '। কিন্তু পরে বুঝলাম যে এতো যে সে ছায়া নয় বাঘের ছায়া, সঠিক ছায়া ফেলতে প্রায় দশবার লম্ফ দিতে হয়েছিল ( ছোটবেলায় স্কুলে high jump চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুফল বোদহয় সেবার পেলাম )।

এরই মধ্যে বলা ভালো সেই টুরিস্ট কোম্পানির মালিক এসে ঘুরে গেছেন, আমার প্রশংসাও করেছেন, আর যেহেতু আমার পেমেন্ট ওনার থেকেই হওয়ার কথা আমিও আর বেশি কথা বাড়াইনি। এর মধ্যে একদিন কেন Dave জিদ করে মাঝিদের সাথে রাত কাটায়, সঙ্গে night vision ক্যামেরা আর অটোমেটেড রেকর্ডের নিয়ে যায়। সেদিন বেশ বুুুঝেছিলাম যে Dave হয়তো শেষবারের মত একবার সুন্দরবনের বিগ ক্যাটকে অনুুভব করতে চেয়েছে। এই কদিন একটা পরিবারের মতো ছিলাম, বিভিন্ন দেশ, ভাষা accent, সংস্কৃতি, চামড়ার রং সব একাত্ম করে দিয়েছিল আমাদের বাঘমামা, তাঁর দর্শন একদিনও না মিললেও সবসময় মনে হয়েছে আমাদের ধারে কাছেই আছেন, আমাদের ওপর কড়া নজর রাখছেন শুধু দেখা করে ভাগগিস আপ্যায়ন করতে আসেননি।
ME & DAVE
এই তেরো দিন আমার জীবনে এখনো এক অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষ বহন করছে। শেষ দিন এইসব দিকপাল মানুষের কাছে ফ্যানের মতো সই সংগ্রহ করেছি, ওনারা আমার সামনেই যখন আমার কাজের প্রশংসা করেছেন মনে হয়েছে সত্যি গুণী মানুষদের একমাত্র পরিচয় বোদহয় তাদের নম্রতা। এয়ারপোর্টে bid adieu করার পর একটা অদ্ভুত অনুভূতি হল, যেন প্রকৃতির ঘরবাড়ি ছেড়ে আবার সেই কংক্রিটের জঙ্গলে প্রবেশ করলাম, যেখানে প্রতি পদে পদে কর্পোরেটের ধূর্ত জন্তুরা ওৎ পেতে বসে আছে। Icon Films এর Nike আর Claire এর সাথে এর পরেও যোগাযোগ রয়ে গেছে, অনেকবার কিছু wildlife সংক্রান্ত প্রতিবেদন অথবা কোনো ভারতীয় তথ্যচিত্রকারীর সন্ধান করে দিয়েছি। এরপরে অনেকবার সুন্দরবন যাওয়ার কথা ভাবলেও যেতে পারিনি, অবশেষে আমার মেয়ের তিন বছরের জন্মদিনের treat হিসেবে সপরিবারে প্রথম গেলাম। আমার মেয়েকে যখন দু বছরের পরে zoo তে নিয়ে গিয়ে দেখাই কিরকম বাঘকে খাঁচায় বন্দি অবস্থায় মানুষ জন্তুর মতো ব্যাবহার করছে আর এখন সে দেখলো বাঘের আসল বাড়ি যেখানে মানুষকে সন্তর্পনে সম্ভ্রমের সঙ্গে পা ফেলতে হয়!
My Wife, My Princess & My  Brother

Animal Planet | World's Deadliest Towns: The Land of Man-eating Tigers (2 episodes.)

A Glimpse of the Episode

Copyrighted to Animal Planet ( An Icon Film Production by Director Luke Wiles)

No comments:

Post a Comment