হিন্দুত্ব কখনোই কোনো ধর্ম নয় একটা সভ্যতা। হিন্দুস্থানের নানা মুনি নানা মতের সরলীকরণ করতে ব্রিটিশ দের শীল মোহরেই প্রথম হিন্দু বলে কোনো ধর্ম হিসেবে গণ্য হয়। ব্রিটিশ দার্শনিকরা ধর্ম শব্দটার মাহাত্য বোঝেনি। যা ধারণ করে বা আমাদের প্রকৃত আধার ( Adhaar কার্ড নয় ) তা কখনো religion এর সমার্থক হতে পারেনা। জলের ধর্ম গড়িয়ে পড়া হলে english এ এটা জলের property not religion। সেবাই মানব ধর্ম হলে হিন্ধু একই অর্থে কিকরে ধর্ম হয়? তারমানে তথাকথিত religion বলতে হিন্ধু বুঝলেও আমরা কিন্তু ভিন্ন ধর্মের। আমাদের সভ্যতায় ধর্ম র সঙ্গে অধর্ম র প্রভূত গুরুত্ব আছে যেখানে স্পষ্ট আমরা যখন আমাদের স্বকীয় গুণের বিরুদ্ধাচারণ করি বা সত্যে ( সনাতন ধর্মে সত্যেই শ্রেষ্ট ) থেকে বিচ্যুত হই তখনই বুঝি সেটা অধর্ম। কিন্তু সেই অর্থে anti-religion, অথবা non-religion বলে কিছুই হয়না। স্বাধীনতার ইতিহাসে অনেক জল বয়ে গেছে, ভারতে অনেক বহীরাগত সম্প্রদায়, গোষ্ঠী, লুটেরা, বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যবাদী সবাই আমদানি করেছে তাদের নিজস্ব শাসন কৃষ্টি ও সভ্যতার সংজ্ঞা কিন্তু ভারতীয় ভাব সাগরে নয় তলিয়ে গেছে অথবা ছোট ডিঙি নিয়ে ক্রমাগত ঢেউয়ের মোকাবিলায় সংগ্রাম করেছে।
দেশ বিভাজনের মাধ্যমে যখন আমাদের এক দুর্বল স্বাধীনতার ভিক্ষা মেলে আমরা তখন ব্যস্ত হয়ে পড়ি পৃথিবীর নব্য মতবাদ থেকে চয়ন করে একটা নতুন ভারতের নির্মাণ করতে যেখানে প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্য ততটাই স্থান পায় যতটা ব্রিটিশ, ফ্রেঞ্চ, জার্মান দার্শনিকদের বোধগম্য হওয়া রচনায়, কারণ আমাদের প্রথম সারির নায়কেরা ইউরোপীয় শিক্ষায় ও ভাবধারায় অনুপ্রাণিত। চিরতরের জন্য দাখিল হয় কিছু imported term যেমন rule of law, secularism, communal harmony, tolerance, ইত্যাদি। সাম্প্রদায়িক কথাটা মানে যে কোনো ব্যাক্তিসমষ্টি যারা একই মতবাদ পোষণ করে, তার মানে Congress, CPM, BJP, TMC এরাও তো এক একটা সম্প্রদায়, শুধু মুসলিম শিখ ক্রিষ্টান নয়। মানুষ আজ কাল বলছে tolerance কমে গেছে বিগত কিছুদিন। আসলে হিন্দুস্থানে tolerance কথাটা ছিলই না তাই এর সঠিক ভারতীয় version নেই। আসলে আমাদের জন্মস্থানে চিরকালই প্রত্যেক মানুষের চূড়ান্ত স্বাধীনতা ছিল নিজের আরাধ্য ইষ্ট চয়ন করার তাই তেত্রিশ কোটি দেব দেবী, হয়তো তখনকার তাই জনসংখা ছিল যখন থেকে এই কথাটার উৎপত্তি। জানিনা আমরা কি একে অপরকে tolerate করবো?
সত্যি কথাটা হলো বারংবার বহিঃ আক্রমণে জর্জরিত হয়েও আমরা জীবন থেকে আমাদের dna থেকে অতিথি দেব ভবঃ র মতো সংস্কার ভুলিনি তা সে যতই ব্রিটিশ, মার্ক্স, মোহম্মদ এর দ্বারা অনুপ্রাণিত হই আমরা। সুফিরা একমাত্র ভারতেই নিরাপদ, বাউলদের সংগীত ই একমাত্র ধর্ম। ব্রিটিশ এসে আমাদের দাসত্ব করতে genetically মজ্জাগত করেছে, মার্ক্সীয় পাঠ পরে আমরা একটা intellectual status পেয়েছি যাতে আমাদের ভাবনা হয়েছে তথাকথিত science সিদ্ধ হলেই চোখ বুজে বিস্বাস করা যায় আর spiritual science নাকি সোনার পাথরবাটি। বিবেকানন্দ যখন তীব্র ভৎসনা করছেন তখনকার গরক্ষকদের তখন তিনি পথিকৃৎ আবার যখন বলছেন জগতে সবই লৌকিক, বা জন্মান্তর সত্য তখনই উনি ভন্ড।
আমরা আজও ভারতীয় ঐতিহ্যে বিস্বাস রাখতে পারিনা যতক্ষন না পশ্চিমি বিশ্বের প্রভুরা তকমা দেন, এই ধ্রুব সত্যতা বারংবার প্রমাণিত করেছেন, বিবেকানন্দ, যোগানন্দ, শ্রীল প্রভুপাদ, থেকে এখনকার অনেক যোগীপুরুষ। Beatles এর Sgt. Peppers Album cover এ যখন ভারতীয় যোগীদের দেখা যায়, Job Charnok ( কলকাতার কারিগর ) থেকে George Harrison ( প্রবাদপ্রতিম বিটল সের গায়ক ), Alfred Ford ( ফোর্ড মোটর্সের চেয়ারম্যান ), Julia Roberts ( হলিউড অভিনেত্রী) থেকে প্রচুর স্বনামধন্য scientist, philosopher, writer,নানাবিধ বুদ্ধিজীবী যখন সনাতন হিন্দুধর্মের আশ্রয় নিয়েছেন, তখনো আমরা যুক্তি সাজাই এনারা ধর্মীয় প্রোপাগান্ডার স্বীকার।
ইদানিং কালের বিশ্বের দুই সবচেয়ে প্রভাবশালী কোম্পানির জনক নিজেরাই স্বীকার করেছেন কিভাবে হিন্দুভাবধারা তাদের প্রতিষ্ঠিত ও পুষ্ট করেছে। স্টিভ জোবস ( Apple Inc কর্ণধার) ভারতীয় যোগীর লেখা পৃথিবীর ইতিহাসে ১০০ বেস্টসেলারের অন্যতম ( যোগিকথামৃত: Autobiography of a Yogi ) পড়ে এতটাই মুগ্ধ যে উনি প্রায় জীবনের পঁচিশ বছর প্রত্যেকবার পড়েছেন। শুধু তাই নয়, ওনার ক্যান্সারে মৃত্যুর পর উনি আমেরিকার বিশিষ্ট সবাইকে অগ্রিম ওনার funeral এ নিমন্ত্রণ করে যান, তাদের জন্য উপহার হিসেবে একটা কালো সুন্দর বাক্স ছিল ( যেমন Apple প্রোডাক্ট case), সবাই ভেবেছিলেন কোনো অত্যাধুনিক apple গ্যাজেট হবে কিন্তু খুলে এই বইটি পান। গুগলের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় কোম্পানি ফেসবুকের জনক Mark Zukerberg স্বীকার করেন তিনি যখন খুব খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, প্রায় কোম্পানি বেচে দেওয়ার উপক্রম তখনই Steve Jobes এর অনুপ্রেরণায় উত্তর ভারতের এক অতি অনামী আশ্রম ( নিম করোলি বাবার নামে ) ভ্রমণ করেন তারপর তো আমরা সবাই জানি তিনি আজ কোথায়। বারংবার যখন সেই নিউটনের সময় থেকেই পশ্চিমের দার্শনিক থেকে বিজ্ঞানীরা আমাদের অমূল্য বেদ পুরান, উপনিষদ, বিবিধ গ্রন্থের পাঠোদ্ধার করতে তার নির্যাস বুঝতে সংস্কৃত শিখেছেন আমরা অবহেলা করে ব্রিটিশ ঐতিহাসিকের colonial ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে নিজেদের গৌরবান্বিত ইতিহাসকে ভুলেগেছি। ভারতের স্বাধীনতার আগে যত মনীষীর সমাগম হয়েছে তাঁদের সবারই উৎস আমাদের প্রাচীন সভ্যতার ভীত। ব্রিটিশরা যতনা আমাদের আত্মবিস্মৃতি ঘটিয়েছে আমাদের স্বাধীন ভারতে তার চেয়ে বেশি ক্ষতিস্বাধন করেছে আমাদেরই দেশীয় নেতারা যারা স্বজাতি হওয়ার সুবাদে তাদের পরাধীন পরাশ্রয়ী মানসিকতা বাম বা ডানপন্থার মোড়কে আমাদের slow poison করে স্বার্থসিদ্ধি করেছে আর ব্রিটিশ divide & rule পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বিদেশি শক্তির অঙ্গুলিহেলনে।
রবীন্দ্রনাথ কে আইনস্টাইন বলেছিলেন যে আপনার থেকে আমি অনেক অর্থে ধার্মিক যখন ব্যাখ্যা করেন " আমারই চেতনার রঙে পান্না হলো সবুজ...."। সেই রবীন্দ্রনাথই কিন্তু আমাদের সুপ্রাচীন সভ্যতা বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের সাবধান করে দেন : "There are two religions on the earth, which have distinct enmity against all other religions. These two are Christianity and Islam. They are not satisfied with just observing their own religions, but are determined to destroy all other religions. That’s why the only way to make peace with them is to embrace their religion.” বিবেকানন্দ যিনি শুধু হিন্দু সভ্যতার ( হিন্দু religion নয় ) পুররুদ্ধারের জন্য সাম্প্রদায়িক শক্তি বা semitic ধর্মের দুরভিসন্ধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন: “The more selfish a man, the more immoral he is. And also with that race which is bound down to itself has been the most cruel and the most wicked in the whole world. There has not been a religion that has clung to this dualism more than that founded by the Prophet of Arabia (Mohammed), and there has not been a religion (Islam) which has shed so much blood and been so cruel to other men. In the Koran there is the doctrine that a man, who does not believe these teachings, should be killed; it is mercy to kill him! And the surest way to get to heaven, where there are beautiful ‘houries’ and all sort of sense-enjoyments, is by killing these unbelievers. Think of the bloodshed there has been in consequence of such beliefs (Islam)!”
[The speech delivered by Swami Vivekananda in London on 18th Nov.1896].
আসলে মানুষ তার সংস্কার দ্বারা প্রভাবিত হলেও একমাত্র আধ্যাতিক অন্নেষণই তাকে সব গন্ডির ঊর্ধ্বে নিয়ে যায় তাই বলবো ভারত আসলে সেই spiritual entity বহন করছে যুগের পর যুগ ধরে সেখানে চিরকালই বহুত বা নিজ নিজ মতবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে, এত বেদ পুরান সবই মানুষের সেই অতি ব্যাক্তিগত উপলব্ধি থেকে সনাতন সত্য কে খুঁজেছে। নাস্তিক ( চার্বাক), আস্তিক একিস্বরবাদী পৌত্তলিক সবাই এই হিন্দু সভ্যতার ই অঙ্গ। আমাদের পরম্পরায় ব্যাক্তিগত ইস্ট ( ism ) পালন ও প্রচারের অধিকার সবারই আছে।যেই অর্থে কাজী নজরুল ইসলাম মুসলিম হলেও যখন তিনি অবলীলায় শ্যামাসংগীত বা রাধা কৃষ্ণের ভক্তিগীতি লিখে মানুষকে মাতাতে পারেন তখন তিনি প্রকৃতার্থে হিন্দু। প্রকৃত হিন্দু হয়ে উঠতে হলে সেখানে কোনো সংকীর্ণতারি স্থান নেই। Religion সেই অর্থে কারুর না থাকলে আমরা যেন আবেদন করি other sex এর মত religion এর জায়গায় সনাতন ধর্ম অথবা পার্সোনাল (ব্যাক্তিগত, নিরপেক্ষ নয় কারণ সেরকম কিছু হয়না ) একটা অপশন করা হোক। নাম বা পদবি থেকে ধর্ম, সম্প্রদায়, জাতি, লিঙ্গ সব বিশ্লেষণ করে আমাদের রোজি না না সামাজিক বিভাজনে বিভক্ত করা হচ্ছে, জানিনা একদিন আসবে আমাদের ও code থাকবে হয়তো তখন আরো সূক্ষ্ম বিভাজনে আমাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে classify করা হবে, হয়তো সেদিনের কথা ভেবে আমাদের নিজেদেরই দরকার পড়বে আত্ম অন্নেষণের যেখানে সবটাই subjective truth, কোনো ভেদাভেদ বৈরী নেই সবারই এক লক্ষ্য: অনন্তে বিলীন।
:প্রত্যয় সুর
