Thursday, October 17, 2019

Reminiscence : Sunderbans Wildlife Shooting

রোমন্থন : সুন্দরবন এডভেঞ্চার ২০১১

Myself with Icon Films Crew for Animal Planet Documentary Shoot @ Sunderbans
(Ruminating the rare experience of being a part of the 13 day shoot for Animal Planet documentary ( World's Deadliest Towns: The Land of Man-eating Tigers ) as Local Interpreter & AD in 2011. Working with a truly international crew ( Icon Films London ) and the international star presenter & big cat specialist Dave Salmoni ( famous for " Into The Pride ") was a special episode in my life timeline.)

আট বছর আগে আমি তখন একটা আমেরিকান প্রিন্টিং কোম্পানিতে কর্মরত, দুপুরে lunch সারছি তখনই আমার বাল্যকালের এক বন্ধুর (Soumitra Banerjee যার ট্যুরিস্ট কোম্পানির সঙ্গে ফ্যামিলি নিয়ে প্রথম বার সুন্দরবন গেলাম 13.10.19) ফোনে যা বলল শুনে কিছুটা হতভম্ভ হবারই জোগাড়। লন্ডনের Icon Films থেকে একটা টিম আসছিল Discovery র একটা docu-feature করতে আর তাদের প্রয়োজন একজন দোভাষী যার ফিল্ম direction এর অভিজ্ঞতা রয়েছে। যেই tourism company তাদের দায়িত্বে ছিল তাদের মাধ্যমেই এই urgent requirement। ওরা সৌমিত্রকেই প্রথম অফার করেছিল কিন্তু ও তখন ওর নাটকের দল ও ট্যুরিজম সদ্য শুরু করায় ১৩ দিনের সময় বার করা অসুবিধে ছিল। আমার english শিক্ষকতার ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা ছাড়াও কিছু ডিরেক্টরিয়াল কাজে যুক্ত থাকায় ( আমাদের "Scavengers" kolkata Short Film Festival এ সেবারই screen হওয়ার সুযোগ পায় ) ওর জোরাজুরিতে অগত্যা আমি হ্যা বলে দি, পরে অনেক সাধ্য সাধনা করে, দুদিনের মধ্যে আমার সব ক্লায়েন্ট feedback আর follow up ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে বাক্স প্যাট্রা গুছতে শুরু করি। সম্পূর্ণ এক অজানা কাজ, এরকম একটা international প্রজেক্ট, এরকম একটা vital role যেখানে আমার ওপর ওদের ভরসা করতে হবে, সব মিলিয়ে বুক ঢিপ ঢিপ তার সঙ্গে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চ!

অবশেষে সেই দিন এলো, আমরা এয়ারপোর্ট থেকে foreign crew কে রিসিভ করে Haldirams এ ব্রেকফাস্ট সেরে দুটো গাড়িতে ভাগ হয়ে সোজা রওনা দিলাম গদখালীর উদ্দেশ্যে। সেখানে যাওয়ার সময় সবার সাথে hi hello আলাপ সারলাম আর যেতে যেতে কিছুটা সহজ হচ্ছিলাম এটা জেনে যে ওরাও আমার biodata দেখে খুশি আর তারপর আমার রোল টা বেশ যত্নের সঙ্গে বোঝানোয়। আমরা গদখালীর জেটিতে পৌঁছতেই আমাদের জন্য একটা ট্যুরিস্ট লঞ্চ অপেক্ষা করছিল। তখনই খেয়াল করলাম আর একটা গাড়িতে পেল্লাই equipment case গুলো, যেটা আনতে তিনজন লোক হিমশিম খাচ্ছিল। আমাদের anchor point ছিল বালি দ্বীপের এক ছবির মতো সুন্দর guest hut।সেখানে পৌঁছতে আমাদের আপ্যায়ন বেশ ভালোই হল শুধু বুজলাম আমার উপস্থিতি কারো কারো কাছে কিছুটা অকিঞ্চিৎকর! 

Lunch সেরে আমরা আলসে রোদে নদীর ধারে আড্ডা মারছি আর পাড়ে দেখছি ছোট ছোট লাল কাঁকড়া তারাও বোদহয় রোদ পোয়াতে সারি দিচ্ছে। হঠাৎই আমার স্বপ্নের মতো সময়টা যেন একটা ফোনে চিমটি কেটে ঘোর বাস্তবে ফিরিয়ে দিল। এতক্ষনে বেশ ভালোই আলাপ জমে গেছিলো আমাদের আর পরের দিন থেকে শুটিং প্লান ও আলোচনা হয়ে গেছিলো। আমার সাথে প্রফেশনাল contract ও sign হয়ে গেছিলো কিন্তু বিধাতা হয়তো অন্যরকম কিছু অভিজ্ঞতা আমার জন্য তুলে রেখেছিলেন। আমি আগেই বলেছি কিছু মুখ প্রথম থেকেই আমার আসাতে মনঃপুত হয়নি সেটা না চাইলেও প্রকাশ করে ফেলেছিল। সেরকমই একজন ট্যুরিস্ট গাইড এসে যখন ফোনটা আমাকে ধরালো অপর প্রান্ত থেকে ভেসে এলো সেই ট্যুরিজম কোম্পানির কর্ণধারের গলা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুনলাম আমি নাকি যথেষ্ট cooperate করছিনা তাই আমার পরিবর্ত হিসেবে অন্য কাউকে পাঠাবে বা ওখানকার গাইডই নাকি আমার জায়গায় কাজ করবে। আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম আর এটাও জানালাম যে আমার অফিসে ১৩ দিনের unpaid leave মঞ্জুর করেছে সব ফর্মালিটি হওয়ার পরই, কিন্তু উনি অনড় আর বললেন পরের দিনই আমার ফেরার ব্যাবস্তা করছেন আমি যেন তল্পিতল্পা গুছিয়ে নি। ফোনটা কেটে আবার ফেরত দিলাম যাকে সে বোধহয় তখন আর উচ্ছাস চেপে রাখতে পারছেনা। আমার চোখ গেল চরের কাঁকরাগুলোর দিকে, দেখলাম তখনও তারা সবাই পাড়ে উঠতে পারেনি, পেছন থেকে কেউ না কেউ টেনে নাবিয়ে দিচ্ছে। একটা চূড়ান্ত হতাশা গ্রাস করলো সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে বড্ড একা মনে হলো।
Our Picturesque Travelers' Hut
সন্ধ্যে বেলা আমি আর table এ খেতে যায়নি, নিজের রুমে বসে ব্যাগ গুচ্ছছি তখনই শুনলাম দরজায় একটা মৃদু knock। ভাবলাম room attendant হবে, গিয়ে খুলতেই দেখলাম Icon Films এর executive producer, Clair Messenger, বললেন " Are you doing well ? Thought you didn't attend the table, may be you are a little off we noticed after lunch ".আমি অবাক হলাম জেনে যে ওরা আমাকে লক্ষ্য করেছে, আমি ওনাকে ভেতরে আসতে বলে একবার বাইরেটা দেখে নিলাম কেউ আবার spy করছে কিনা। আশ্বস্ত হয়ে ওনাকে খুলে সবটাই জানালাম। দেখলাম উনিও আকাশ থেকে পড়ছেন, তারপর যা হলো আমি অতটা আশা করিনি। উনি বললেন যে পরেরদিন ভোর থেকে shoot আর আমাকে নিয়ে ওনারা অত্যন্ত satisfied এর পরে উনি সরাসরি ফোনে ধরলেন ট্যুরিস্ট কোম্পানির মালিককে। এপাশ থেকে অত্যন্ত professionally আমার বিষয় নিয়ে জানতে চাইলেন, আর বেশ বুঝলাম ওপাশ থেকে আমার বিরুদ্ধে যে সব যুক্তি দেওয়া হচ্ছিল তার উত্তরে Claire শুধু বলে যাচ্ছিল " We are happy with Prat we want nobody else now ".তারপর বুঝলাম ওপার থেকে বেশ জোরালো আবেদন হচ্ছে, তখন এই ব্রিটিশ মহিলা বেশ কঠিন কণ্ঠে বললেন, " Well in any way we can't compromise with our schedule and we are very specific about our requirement, it's not the job of a guide " আমি শুনছি আর ভাবছি  কিভাবে এক বিদেশি আমার জন্য আমারই এক স্বদেশীর সঙ্গে রীতিমতো লড়াই করছে। তখনই মনে হল কেন দেশ স্বাধীন হতে এতদিন সময় লেগেছিল। অবশেষে Clair আমাকে আশ্বস্ত করে গেলেন আর dinner table এ আসতে অনুরোধ করলেন যাতে আগামী দিনের shooting plan brief করতে পারেন।

এর পর থেকে যদিন ছিলাম সেই সব অখুশি মুখগুলো একপ্রকার কাষ্ট হাসি আর আগবাড়ানো ভদ্রতা করতে দেখেছি। যদিও আমি প্রতিপদে শত্রুশিবিরে থাকার মতো চোখ কান খোলা রেখেছিলাম, একটা কথা বলতেই হবে, আমার ঘরটা বোধহয় Clairএর নির্দেশেই আমাদের Presenter, Dave Salmoni র সংলগ্ন চাওয়া হয়। রোজ dinner table এর অভিজ্ঞতা এক কথায় অবিস্মরণীয়, কারণ সেখানে এতরকম রোমহর্ষক anecdote শুনেছি যা বোদহয় আর কোনো ভাবেই জানা সম্ভব হতোনা।
DAVE SALMONI : Picture curtesy ANIMAL PLANET
এরকমই অনেক তথ্য জেনেছিলাম যেমন Dave Salmoni ( কানাডিয়ান হিংস্র পশু বিশেষজ্ঞ, বিখ্যাত টিভি স্টার, যার নিজস্য পোষা দুটো বাঘ আছে ) টানা ছয় মাস আফ্রিকার তানজানিযার জঙ্গলে শুধু একটা জীপ, ক্যামেরাম্যান আর লোকাল গাইড নিয়ে একটা সিংহের দলের সাথে কিভাবে কাটিয়েছিল, youtube এ Into the Pride সার্চ করলে দেখতে পাওয়া যাবে সেই সিরিজ। Behind the scenes অনেক কিছুই ঘটে যেটা আরো চিত্তাকর্ষক। এটা জেনেছিলাম যে সিংহ সত্যিই পশুরাজ, খিদে না পেলে সে ব্রুক্ষেপ ও করবেনা আশেপাশে কিন্তু সমস্যা হলো সিংহ ছানাদের নিয়ে, তারা যদি একবার ইচ্ছে প্রকাশ করে বসে সেই তল্লাটে না থাকাই শ্রেয় কারণ তখন তার বাবা মা বদ্ধপরিকর হয়ে আসরে নামবে জুনিয়রকে শিকার শেখানোর উদ্দেশ্যে। এরকমই বাঘ কখনো সোজাসুজি আক্রমণ করেনা, আর চোখে চোখ রাখলে পলক না পড়া অব্দি ঝাঁপাও না। তবে সুন্দরবনের বাঘের ব্যাপারে যথেষ্ট সম্ভ্রম আছে বিশ্বজুড়ে কারণ এরকম ধূর্ত, প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া বিরল দানব আর দুটি পাওয়া যাবেনা পৃথিবীতে। সুন্দরবোনেরই অনেক অজানা তথ্য জানলাম অখিল বাবুর ( নাম পাল্টানো ),আমাদের লোকাল গাইডের কাছে ( যিনি আগে animal poaching এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এখন wild life conservation এর এক সক্রিয় কর্মী ) কিছু প্রচলিত মিথ আছে যেমন মৌলিরা বা মাঝিরা মাথার পেছনে মুখোশ পরে যাতে বাঘ পেছন থেকে না আক্রমণ করে কিন্তু সত্যিটা হলো এই পদ্ধতিটা শুরু হওয়ার পর কিছু দিন মাত্র কাজ দিয়েছিল তারপর বাঘ নিস্পলক চোখ যেদিকে সেদিকেই ঝাঁপায়। সুন্দরবনের বাঘ শিকারের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা ওৎ পেতে বসে থাকতে পারে, শুকনো পাতায় যদি ভুল করে শব্দ করে ফেলে সে রাগে নিজের পায়েই কামড় বসায়। গরু ছাগল মোষ অনায়াসে লোকালয় থেকে মেরে নদী সাঁতরে পার হয়ে যেতে পারে নিমেষে। Reserve area তে নাইলন জাল দেওয়া হয় কারণ বাঘ জালকে কিছুটা সমীহ করে পাচ্ছে তাদের থাবা জড়িয়ে যায় তবুও তারা ভাঁটার সময় জলের স্তর কমলে জালের নীচে দিয়ে অথবা কোনো উঁচু ডিবি পেলে সেখান থেকে লাফ দিয়ে জাল টপকেও লোকালয়ে শিকারে আসে। আমাদের ছোট বেলায় একটা বাংলা tongue twister ছিল বাবলা গাছে বাঘ বসেছে, যেটা জানলাম সত্যি নাকি অনেক সময় বাঘ ছোট তালগাছ বা বাবলাগাছে উঠে শিকারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। জঙ্গলে প্রবাদ আছে যে দক্ষিণ রায়ের ( জঙ্গলে কেউ বাঘ কে নাম ধরে ডাকেনা, তাই বাঘের দেবতা দক্ষিণ রায়ের নাম নেয় ) দেখা পায় বা গর্জন কাছ থেকে শোনে তার আয়ু অর্ধেক হয়ে যায়। গ্রামে বনবিবি (এক লৌকিক দেবী ) পুজো করে মাঝি বা মৌলিরা যখন গুনিনের থেকে অনুমতি নিয়ে জঙ্গলে যায়, বাড়ির স্ত্রীরা বাড়ি ফেরা অব্দি একবেলা খায়, শাঁখা সিঁদুর পরেনা, এমনকি তারা কোনো রকম ঝগড়া ঝামেলাতেও জড়ায় না কারণ তাদের বিস্বাস এতে তাদের পুরুরদের অকল্যাণ হতে পারে।
INTO THE CREEK WHERE WE SPOTTED THE TIGER PAW PRINT
আমার অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলতে পারি, আমরা যারা টিভিতে দেখে অনেক সময় ভাবি Discovery তে যা দেখায় বোদহয় বেসিটাই ক্যামেরার কারসাজি অথবা পুরোটাই scripted আদপে মোটেও নয়। First hand experience থেকে বলতে পারি কি অসম্ভব দুঃসাহসিকতা আর সততা থাকে ( অবশ্যই অনেক scene manipulated থাকে কোনো ঘটনাকে recreate করতে ) বারো দিনের শুটিংয়ের স্মৃতি ঘাঁটলে আজ ও মনে হয় দিনগুলো কত ছোট ছিল, কত ঘটনাবহুল পৃষ্ঠা যেন ঠেসে এত অল্প পরিসরে সাজানো ছিল।
Entering into the Creeks in a small dingy
Forest Authority র permission নিয়ে আমরা একদম core area তে রীতিমত মৌলিদের সাথে মৌচাক ভেঙেছি ( তার আগে মধু শিল্পীদের কাছে ট্রেনিং নিয়েছি ), জেলেদের সাথে ভোরে ( ৩.৩০ নাগাদ ) জোয়ারের সময় জাল ফেলে আবার ভোরে ভাঁটার সময় মিন ধরেছি, গুনিনের কাছে গিয়ে তার থেকে মনত্রপুত কবচ নিয়ে মা বনবিবির কাছে পুজো দিয়ে মাছ ধরার ডিঙিতে খাঁড়িতে গেছি, সেখানে Dave, আমাদের স্টার DOP Mcginty ( Animal Planet এ বিখ্যাত River Monster ছাড়াও শুনেছি স্পিলবার্গ প্রজেক্টেও কাজ করেছেন ), sound recordist শ্রভন ( দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি )ওর সহকারী, মাঝিরা আর অবশ্যই আমি থাকতাম একটা ডিঙিতে, আর দূরে আমাদের লঞ্চের কাছে আমাদের executive producer Claire Messenger( আগেই পরিচয় দিয়েছি ), আর director Luke Wiles ( Award wining documentary & AD filmmaker ) অন্য ডিঙিতে cordless monitor এ পুরোটা নজর রাখতেন আর walkie talkie তে আমাকে আর presenter কে ডিরেক্ট করতেন। 
BEFORE HONEY COLLECTION TRAINING
আমরা আসলে পাঁচটা story ( সত্যি ঘটনা ) নিয়ে কাজ করছিলাম যেখানে বাঘ কিভাবে নয় জঙ্গলে অথবা গ্রামে ঢুকে মানুষ নিয়ে গেছে । এরকম ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষি যারা তাদের interview নেওয়ার দায়িত্ব আমার ছিল আর তারপর গ্রামের মানুষদের দিয়ে সেটা অভিনয় ( recreate ) করতে হতো।এই সব বাঘা বাঘা মানুষদের সামনে আমি যতই কুন্ঠা বোধ করি, ভাবা যায় না ওরা কি ভাবে আমাকে প্রতিক্ষেত্রে আমার মতামত নিয়েছে। ডিরেক্টর আমাকে প্রত্যেক shot এর আগে আমাকে সব বুঝিয়ে দিতেন তারপর on spot আমাকে পরিস্থিতি অনুযায়ী স্বাধীনতা দিয়েছেন। কতরকম বিভিন্ন স্বাদের ছোটগল্প যার একমাত্র নায়ক অথবা খল নায়ক royal bengal tiger। কখনো একই পরিবারে তিন প্রজন্মের সিঁথির সিঁদুর কেড়ে নিয়েছে, কখনো দুই ভাইয়ের এক জনকে ঠকিয়ে জঙ্গলে টেনে নিয়ে গেছে, কখনো কোনো মহিলাকে অতর্কিতে আক্রমণ করেও প্রাণে বেঁচে গেছে বিধাতার বিধানে। এক বৃদ্ধ যে শুধু মশারির ভেতরে ছিল বলে বাঘ সারা রাত পাশে বসে প্রতীক্ষা করে অবশেষে গ্রামবাসীর হাতে ধরা পড়েছে। কখনো বাঘকে জঙ্গলে ছাড়তে গিয়ে সে যাওয়ার আগে এক বনকর্মীকেই টেনে নিয়ে যায়, সেই থেকে ধরা পড়া বাঘকে এখন জলেই ছাড়া হয়। আমরা যখন interview নিচ্ছি অনেক বিতর্কিত বিষয় উঠে আসে, যেমন বনকর্মীদের একাংশ চোরাশিকারীদের সাহায্য করে, জঙ্গলের পশুদের জন্য পাঠানো সরকারি খাদ্যও দুর্নীতি হয়, শুধু তাই নয় একটা তথ্য উঠে এসেছে যে গ্রামের একটা বয়স্ক শ্রেণী জঙ্গলে গিয়ে প্রায়ই বাঘের কবলে পড়ছে আর তাতেই সন্দেহ বেড়েছে যে সরকারি অনুদানের লোভে তাদের পরিবারই এরকম নৃশংস পন্থা অবলম্বন করছে অভাবের তাড়নায়।

Survivors of Man-Eater Attack
আমার কিছু বিশিষ্ট মানুষের ইন্টারভিউ নেওয়ারও সুযোগ ঘটে যেমন তদানীন্তন মন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলী। যখন উনি গোসাবা অঞ্চলে আসেন আর আমাদের সঙ্গে সাক্ষাত হয়, আমাদের ডিরেক্টর আমাকে বলেন একটা প্রশাসনিক viewpoint রেখে interview এর জন্য brief করতে, তখন বেশ মজার একটা ঘটনা ঘটে। আমি ওনাকে জেঠু সম্বোধন করে বলি কি রকম প্রশ্ন করা হবে, তার উত্তরে বলেন যে উনি ইংলিশেই উত্তর দেবেন শুধু ওরা যেটা বলবে আমি যেন সেটা তর্জমা করে বুজিয়ে দিয়ে ( ওনার কথায় কি সব আমেরিকান ইরিং বিরিং করবে তুই বাবা আমাকে একটু ধরিয়ে দিস ) তারপর দেখলাম যে তুখোড় রাজনীতিবিদরা কিভাবে প্রশ্নের উত্তর দেন ( অনেক সময় প্রশ্নের তোয়াক্কা না করেও)। ওনাকে বলেছিলাম খুব ভালো হয়েছে উত্তর, সেই শুনে শুধু মিটিমিটি হেসেছিলেন। এরপর আমরা দুজন বনদপ্তর আধিকারিকের মধ্যে একজনের ইন্টারভিউ নিতে পেরেছিলাম ( সময়ের সল্পতা আর খারাপ আবহাওয়ার জন্য আমরা ঝড়খালী যেতে পারিনি ) আর সেটা নিয়ে পরে আর এক গল্প তৈরি হয়। উপেক্ষিত আধিকারিককে উদ্ধৃত করে খবরের কাগজে ফলাও করে বেরোয় যে এক বিদেশি ডকুমেন্টারি দল নাকি অনুমতি ছাড়াই সুন্দরবন core অঞ্চলে শুটিং করেছে।
MINISTER KANTI GANGULY APPEARING FOR INTERVIEW
একদিনের কথা না বললে কিছুই বলা হবেনা, আমরা সেদিন রাত ৯ টার মধ্যে ডিনার সেরে যে যার ঘরে রেস্ট নিচ্ছি, হঠাৎ কল করে জানান হল আজ আমরা রাতে লঞ্চে কাটাব কারণ ভোর রাতে একটা গুরুত্বপূর্ণ শুট আছে। যে যার কিট গুছিয়ে যখন লঞ্চের ডেক এ জড়ো হলাম এক অপূর্ব অনুভূতি হল। সেদিন বোদহয় পূর্ণিমা বা আশেপাশের সময় ছিল, একটা স্নিগধ আলোয় চারিদিক ভেসে যাচ্ছে, লঞ্চের হালকা ইঞ্জিনের শব্দ ছাড়া চারিদিকে এক নৈশব্দের উৎসব, মাঝে মাঝে ঝি ঝি পোকার ডাক, দূরে কোথাও পেঁচার ডাক। নদীর চিকচিকে জল কেটে যখন আমরা অতি ধীরে খাঁড়ির পাস দিয়ে যাচ্ছি, কোথাও একটা শিয়ালের ডাক যেন সমস্ত নীরবতাকে দ্বিখণ্ডিত করল।
Moonlit Night from Launch Deck
আমরা এই স্বর্গীয় পরিবেশে সবাই যে কতক্ষন নিশ্চুপ ছিলাম বলতে পারবোনা, তবে পাশের জঙ্গল ক্রমশ ঘন হওয়ায় আমাদের গাইড নিচে কেবিনে গিয়ে বিশ্রাম নিতে বলল। কিন্তু ততক্ষনে আমরা মশগুল হয়ে শুনছি Dave এর আফ্রিকাতে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা। ওরা ওখানে Killer Hippos নিয়ে একটা ডকুমেন্টারি করতে গেছিলো। ওর কাছ থেকেই জানলাম আফ্রিকার জঙ্গলে সিংহ বা হাতি নয় সব চেয়ে বেশি মানুষের প্রাণহানি হয় জলহস্তীর কারণে। ওখানকার  মুন্ডারী উপজাতিরা একরকম কালা জাদু বা mumbo jumbo করে যেটা ওখানে লাইভ শুট করা হয়েছিল। সেই গুনীন বা ওঝা নাকি এমনি জাদু করে যে পুরো শুটিং crew এমন বশ হয় যে প্রায় সবাই দুদিনের হিসেব পায়নি। কিছু অবিশ্বাস্য ব্যাপার ঘটে যখন সেই ওঝা এক জীবন্ত ( হাত দিয়ে নাকি হৃৎস্পন্দন বোধ করা যাচ্ছিল ) হিপ্পোর পুতুল Dave কে দিয়ে এক মাটির ঘরের মেঝে থেকে খুঁড়ে বার করায় যার যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা তারা আজও করতে পারেনি। এই কারণেই দেখেছি যেদিন আমরা সুন্দরবনের এক গুনীনের কাছে যাই মধু সংগ্রহের শুটের আগে, Dave বেশ ভক্তি ভোরে সব মন্ত্র উচ্চারণ করে হাতে তাবিজ পরেছে। এমনকি যতজন বাঘের হাতে প্রাণ দিয়েছে তাদের আত্মীয়দের সাথে অথবা যারা বেঁচে ফিরেছে সবাই বলেছে যে সঙ্গে গুনীন থাকলে তাদের নাকি বাঘে কোনো ক্ষতিই করেনা। আমরা যখন গুনীন কে জিজ্ঞেস করি উনি বলেন যে উনি যতবার গেছেন কোনো দুর্ঘটনা হয়নি, জানিনা অন্য গুনীনদের ও একই অভিজ্ঞতা কিনা।
DAVE SALMONI  WITH FISHERMEN RELAX AFTER SHOOT
সেইদিনটার কথা বললে এখনো মনে হয় কোনো এক রোমহর্ষক হলিউড মুভির মতো। সকালটাই সারাদিনের দিকনির্দেশ করে দিয়েছিল। আমরা মাতলা নদীর পাড়ে খাঁড়ির মধ্যে মৎস্যজীবীদের সাথে সেদিন গিয়েছিলাম ভাঁটার সময় কিভাবে ঘূণিতে মাছ ধরা হয় দেখতে। সেদিন Dave খুব খোস মেজাজে ছিল, মাঝিদের থেকে বিড়ি চেয়ে খেয়েছিল সেটা আমি ক্যামেরা বন্দি করেছিলাম ( বলে রাখা ভালো আমাকে ডিরেক্টর আমার ক্যামেরায় কিছু ছবি তুলতে অনুমতি দিয়েছিলেন যদিও সেটা এতদিন পর প্রকাশ করতে আর কোনো বাঁধা নেই ) মাছের জাল তুলতে গিয়ে আমরা সবাই বেশ কিছুটা খাঁড়ির মধ্যে প্রবেশ করি, সবারই পা কাদায় প্রায় হাঁটু ওপর অবধি গেঁথে গেছিলো। পায়ে জুতো থাকা সত্ত্বেও টের পাচ্ছিলাম সুন্দরী গাছের শেকড় কিভাবে বিঁধছে। আমরা আগেও অনেকবারই এরকম খাঁড়ির কাদায় নেমে মৌলিরা কিভাবে গাছ পুজো করে, ধোঁয়া দিয়ে, মৌচাক ভেঙে মধু সংগ্রহ করে শুট করেছি। কিন্তু জানিনা এদিন সকাল প্রায় নটাতেও একটা গা ছমছমে অনুভূতি হয়েছে আর তারপরই আমাদের মধ্যে একজন মাঝি ছুটে গিয়ে একটা ডিবির ওপর বাঘের পায়ের ছাপ আবিষ্কার করে। তার সঙ্গে কিছু হাড় পড়ে থাকতেও দেখে রীতিমত ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়। আমরা দলে প্রায় দশজন থাকা সত্ত্বেও কারোরই সাহস হয়নি আর ওখানে থাকার। ডিঙি থেকে লঞ্চে উঠে সবাই একটু স্বাভাবিক হই তারপর Dave ব্যাখ্যা করে যে বাঘটা হয়তো যখন জাল খাটিয়ে যাওয়া হয় তার পরই ওখানে ডিবিতে বসে কোনো বনশুয়র অথবা কোনো ছোট প্রাণী মেরে প্রাতরাশ করে, পরে জোয়ার বাড়লে গভীর জঙ্গলে চলে যায়। যাই হোক এই ঘটনার পর আমরা সবাই একটু বেশিই সতর্ক হয়ে যাই। এরপর লঞ্চেই কাটিয়ে lunch সেরে আমরা আবার মাতলা নদীর ধারে মাঝিদের একজনকে নিয়ে বাঘ চলে যাচ্ছে সেই দৃশ্যের শুট শুরু করি। এদিকে শুটিংয়ের শেষের দিকে যখন বেলা প্রায় চারটে, ঈশান কোনের দিকটা তাকিয়ে প্রকৃতির এক অপরূপ দৃশ্য দেখলাম। আকাশটা গাঢ় নীল থেকে ক্রমশ বেগুনি বর্ণে রূপান্তরিত হচ্ছে। হঠাৎ walkie talkie তে SOS এর মত স্পষ্ট শুনলাম " Pack up storm approaching ". আবারো তড়িঘড়ি করে ডিঙিতে যখন উঠছি বেশ টের পেলাম একটা হু হু করে শীতল বাতাস আমাদের বিপরীতে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। এমনিতেই শুনেছি মাতলা অতি ভয়ঙ্কর নদী আর এই অশনি সংকেত পেয়ে যেন আমাদের বোটের নিচে জল মাতাল হয়ে উঠলো। আমি ছোট বেলায় কলাগাছের ভেলায় আমার মামারবাড়ির গ্রামের পুকুরে এপার ওপার করেছি ওইটুকুই কেরামরি। এরকম দোদুল্যমান নৌকোয় আমার বোধোদয়  হলো যে আমার সব শিক্ষাই বেকার, নিজের ওপর ভীষণ রাগ হলো যে কেন বারবার শুরু করেও সাঁতারটা আর শেখা হয়নি। যদিও ওপরে আকাশ তখন ক্রমশ কালচে হয়ে আসছে আর আমিও দেখলাম আমাদের লঞ্চ ও আমাদের ফেলে মাঝ নদীর দিকে এগোচ্ছে। আমরাও আপ্রাণ সাহস সঞ্চয় করে দক্ষ মাঝিদের ভরসায় এগোচ্ছি। মাঝিরাই জানালো বড় লঞ্চ ঝড়ের সময় কিনারায় থাকলে এলোপাথাড়ি স্রোতে উল্টে যেতে পারে। জানিনা কিকরে কখন লঞ্চে আমাদের বোট লাগলো, তখন বড় বড় ফোঁটা নিয়ে মুষলধারে আছড়ে পড়ছে বৃষ্টি সঙ্গে ঝড়ের সোঁ সোঁ গর্জন।এসব সাহিত্যে, সিনেমায় খুব ভালো লাগে কিন্তু ওই পরিস্থিতিতে আমাদের আত্মারাম খাঁচাছাড়া হওয়ার জোগাড় হয়েছিল। একটা ত্রিপল চারদিক থেকে ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছে সবাই অন্যদিক দিয়ে ডেক ভেসে যাচ্ছে জলের তোড়ে। অনেকেই কেবিনে বসে পাশের কাঁচের জানলায় জলের ধাক্কা খাওয়া দেখে বোদহয় যে যার ইস্ট নাম জপ করছে। প্রায় পৌনে এক ঘন্টা ধরে এই তান্ডব চলেছে। আমাদের লঞ্চের বৃদ্ধ চালক ও তার ছেলে ওই বৃষ্টিতেও গলদঘর্ম হয়ে যুদ্ধের শেষে মৌতাতে মন দিল। ওপরে ডেকে উঠে আমরা অবাক। যেন কিছুই হয়নি এমন নির্মেঘ পড়ন্ত বিকেলের আকাশ দেখে মনে হল ঠিক যেন প্রকৃতি আমাদের সাথে মস্করা করে গেছে। আমরা সবাই স্নাক্স আর হালকা ড্রিংক সহযোগে যেন উজ্জাপণ করতে বসলাম নবজীবনের। 
APPROACHING STORM
সন্ধ্যে নেমে এসেছে কিন্ত আকাশে মাঝে মাঝে কিছু ঝলক যেন আমাদের অগ্রিম বিপদের আভাস দিচ্ছে। আমরা সম্পর্ক রাখছিলাম অভিজ্ঞ অখিলবাবুর সাথে কারণ উনিই আমাদের ট্যুরের সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন। উনি জানালেন যে ঝড় চলে গেলেও ভারীবর্ষণ আবার হতে পারে কিন্তু উনি একটু অস্বাভাবিক রকমই জোর করছিলেন যেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা ফিরে আসি। এর পর আসল কারণটা যেন কিভাবে আমরা জেনে গেলাম। অখিলবাবু নাকি ঝড় চলাকালীনই আমাদের বারবার ফোনে চেষ্টা করেও পাননি। আসলে ওনার কাছে কোন এক গোপন সূত্রে খবর এসেছে যে foreigner পার্টি কোনদিকে গেছে সেটা নিয়ে বাংলাদেশি একটা ফিশিং ট্রলার নাকি খোঁজখবর করেছে। আসলে জলদস্যু সুন্দরবনে একটা ভয়ের কারণ বিশেষ করে বিদেশি থাকলে আর ওরা নাকি খারাপ আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে পেট্রোলিং কোস্ট গার্ডদের এড়িয়ে তাদের কার্যকলাপ চালায়। এটা জানার পরে আমরা আবার কেবিন বন্দি হয়ে এক অজানা আশঙ্কায় প্রহর গুনতে লাগলাম কখন আমাদের গন্তব্য আসে। এই ফাঁকেই বলে রাখি গ্রামের মধ্যে শুটিং করার সময় এক অতি গায়ে পড়া কবি জুটেছিল। দোষটা অবশ্য আমারই কি কুক্ষণে শুটিংয়ের ফাঁকে কিছু ছেলে ছোকরাদের রসিকতায় প্রশয় দিতে তাকে তার নিজের লেখা কবিতা শোনাতে বলেছিলাম।তারপর থেকে যেন সে opponent teamএর মার্কারের মতো আমার সঙ্গে লেগে থাকতো, যে কোন অছিলায় তার পাঠক বানিয়ে ছাড়তো। এমনিতে ছেলেটা বলেছিল বাংলায় MA, এরপর গ্রামেই ছেলে পড়িয়ে যেটুকু পায় আর শহরের কেউ এলেই তার কবিতা শোনায় কারণ গ্রামে তার এই প্রতিভার দাম দেওয়ার লোক কমই আছে। যাক, আসল কথা থেকে সরে যাচ্ছি। একদিন আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে তার বাড়িতে কে আছে যার উত্তরে যা শুনেছিলাম বেশ গোলমেলে তাই বিস্বাস করিনি। ও বলেছিল যে ও এখন মামারবাড়িতে থাকে যদিও ওর আসল বাড়ি নাকি সোনারপুর ( কলকাতার কাছে ), বাবা স্কুল মাস্টার ছিলেন। কিন্তু পারিবারিক বিবাদে নাকি খুন হন তাই সে তার মায়ের সাথে সুন্দরবনের মামারবাড়িতে চলে আসে। এখানে জীবিত এখন তার দিদা আর ছোট মামা, বাকি দুই মামা মারা গেছেন। তার মামাদের মৃত্যু নিয়ে যদি কোনো বাঘের story পাওয়া যায় ভেবে জিজ্ঞেস করেছিলাম কারণটা। এর উত্তরে সে বলেছিল তার মামারবাড়ির সবাই নাকি বংসপরম্পরা ধরে ডাকাত, আর তার দুই মামা নাকি বাংলাদেশের জলদস্যুদের হাতে প্রাণ হারায় ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে সমস্যার জন্য। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম তাহলে তার ছোট মামা কি করে, তার উত্তরে সে বলেছিল সে নাকি এখন জেলে, হরিণ মেরে পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছে। সে আরো বলে যে তার মামারবাড়ির দাদুরা নাকি বেশ দুর্দণ্ডপ্রতাপ ছিল, তাই সুন্দরবনে তাদের চলে যায় সবাই তাদের সমীহ করে সাহায্য করায়। আমার মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছিলো ' ডাকাতির এত সম্মান ?' সে হেসে বলেছিল যে এখানকার ডাকাত নাকি রোবিনহুড, সরকারি সাহায্য কোনোদিন পৌছত না, মাঝ পথেই দালালরা ভাগ করে নিত, তাই নিজেদের প্রাপ্য ছিনিয়ে না নেওয়া ছাড়া পথ ছিলনা। আমরা লঞ্চে ফেরার সময় কেমন একটা ভাবতে দ্বিধা হচ্ছিল যে একজন গোবেচারা শিক্ষিত কবিতা নিয়ে পাগল কেউ কি করে জলদস্যুদের informer হতে পারে ???
Luke ( Director) briefing the scene to Mcginty ( DOP), Shravan our Sound Recordist behind
গ্রামের যাদের দিয়ে আমাকে অভিনয় করাতে হয়েছিল আমাদের তথ্যচিত্রের ঘটনাক্রম চিত্রায়িত করতে সেটা বলতে গেলে একপ্রকার অনন্য অভিজ্ঞতা। পথনাটিকা অথবা পাড়ার পুজোর নাটকের অভিজ্ঞতা অল্প বিস্তর ছিলই, কিছু সর্ট ফিল্মের amateur কাজ নিয়ে যেটুকু সম্বল সেটুকু দিয়ে যে একটা পুরো দস্তুর প্রফেশনাল ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট সামলে দেব নিজেও ভাবিনি। আমাদের মৃদুভাষী ডিরেক্টর Luke Wiles কখনোই আমাকে ভাবতে দেননি যে আমি কোনো চুনো পুঁটি বরং লোকালদের দিয়ে অভিনয় করানোর ব্যাপারে আমাকে পূর্ন স্বাধীনতা দিয়েছেন। এরকমই একটা শুট চলাকালীন চারদিক থেকে গ্রামবাসী ভিড় করে আছে আর আমাদের যেই মহিলা চরিত্র বার বার লজ্জা পেয়ে এক্সপ্রেশন মিস করছেন। আমার হঠাৎই মনে হল যে তার পরিবারে কি কাউকে বাঘ নিয়ে গেছে ? তাকে জিজ্ঞেস করতেই সে বললো এক নিকট আত্মীয় যার বাঘে খাওয়া দেহাবশেষ উনি দেখেছেন ও। শুধু ওটা নিয়ে ভাবতে বলায় ওনাকে আর বলতে হয়নি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া বেরিয়ে এসেছে।

এরপর এক হাস্যকর ঘটনার কথা ভাবলে আজ ও পেটে খিল ধরে। এইবার ঘটনাটা এমন ছিল যে বাঘ গ্রামে ঢুকে একটা গোয়ালে আশ্রয় নিয়েছে আর সারা গ্রামবাসী চারদিকে ঘিরে ধরেছে, তারই মধ্যে নেট দিয়ে ঘিরে এক বণদপ্তরের কর্মী ঘুমপাড়ানি গুলি করবে, কিন্তু ফসকে যাবে আর বাঘ লাফিয়ে এক গ্রামবাসীকে ছিটকে পালাবে। এই বার সেই গ্রামবাসী যার ওপর বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়বে তার দৃশ্যের জন্য যাকে পাওয়া গেল তিনি একজন গ্রামের প্রতিষ্টিত পালাগান আর যাত্রা শিল্পী। আমি কিছুটা আঁচ করেছিলাম যে শুধু আর্তনাদ করে ভুলুন্ঠিত হওয়ার রোল পেয়ে একটু অখুশিই ( বিদেশি কাজ করে খ্যাতি পাওয়ার লোভ ও সামলাতে পারছেন না আবার মৃত সৈনিক মার্কা রোলটাও মানতে পারছেন না ) আমাকে তিনি আগ বাড়িয়ে অনুরোধ করলেন যদি কিছু ডায়ালগ রাখা যায়। আমি নিমরাজি হওয়াতে উনি কিছুটা দমে গেলেন কিন্তু ক্যামেরা action, রোল হতেই উনি গগনবিদারী হুঙ্কার ছেড়ে " বাবারে মরি গেলাম " বলে মাটিতে এমন লুটিয়ে পড়লেন যে সমস্ত crew, দর্শক সমস্বরে হাসিতে ফেটে পড়লো আর আমি কাট বলতেও ভুলে গেলাম।
Shooting for Tiger Hunt
এবার আমার পালা, মানে সেও আবার তথ্যচিত্রের নায়কের রোল বলে কথা। এবার গল্পটা এমন ছিল যে একজন বৃদ্ধ রাতে মশারির মধ্যে ঘুমিয়ে থাকবে, এদিকে বাঘ তার পাশেই অপেক্ষা করবে সারারাত ( বলে রাখি বাঘ যে কোন রকম জালকে সমীহ করে কারণ তাদের ধরার সময় আর জঙ্গলেও বেড়া দিতে সেটাই ব্যাবহার হয়। তাই মাঝিরা জঙ্গলে গেলে মশারি খাটিয়ে শোয় ) আর ভোর হলে কিছুর তাড়া খেয়ে মশারি টপকে ধাঁ হয়ে যাবে। এবার শুট করার সময় শিল্পীর সবচেয়ে কাছে আমাকে থাকতে হত, পাশে সাউন্ড রেকার্ডিস্ট, পজিশন মতো ক্যামেরা আর দূরে মনিটরে আমাদের ডিরেক্টর। ঘরটা তেমন বড়ো ছিল না আর Dave এর মত অতিকায় মানুষকে বাইরে থেকেই দর্শকের মতো দেখতে হচ্ছিল। তারপর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, লুকের গলা ভেসে এলো ওয়াকিটকিতে " Prat, now please play the lead...I mean you have to jump above the net " এটা বলতেই ক্রিও এর সবাই হেসে congratulate করলো...সত্যি জীবনে প্রথম বাঘের চরিত্রে তাও আবার আমি নয় আমার ছায়ামাত্র । হেসে বললাম ' Shadow acting you mean '। কিন্তু পরে বুঝলাম যে এতো যে সে ছায়া নয় বাঘের ছায়া, সঠিক ছায়া ফেলতে প্রায় দশবার লম্ফ দিতে হয়েছিল ( ছোটবেলায় স্কুলে high jump চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুফল বোদহয় সেবার পেলাম )।

এরই মধ্যে বলা ভালো সেই টুরিস্ট কোম্পানির মালিক এসে ঘুরে গেছেন, আমার প্রশংসাও করেছেন, আর যেহেতু আমার পেমেন্ট ওনার থেকেই হওয়ার কথা আমিও আর বেশি কথা বাড়াইনি। এর মধ্যে একদিন কেন Dave জিদ করে মাঝিদের সাথে রাত কাটায়, সঙ্গে night vision ক্যামেরা আর অটোমেটেড রেকর্ডের নিয়ে যায়। সেদিন বেশ বুুুঝেছিলাম যে Dave হয়তো শেষবারের মত একবার সুন্দরবনের বিগ ক্যাটকে অনুুভব করতে চেয়েছে। এই কদিন একটা পরিবারের মতো ছিলাম, বিভিন্ন দেশ, ভাষা accent, সংস্কৃতি, চামড়ার রং সব একাত্ম করে দিয়েছিল আমাদের বাঘমামা, তাঁর দর্শন একদিনও না মিললেও সবসময় মনে হয়েছে আমাদের ধারে কাছেই আছেন, আমাদের ওপর কড়া নজর রাখছেন শুধু দেখা করে ভাগগিস আপ্যায়ন করতে আসেননি।
ME & DAVE
এই তেরো দিন আমার জীবনে এখনো এক অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষ বহন করছে। শেষ দিন এইসব দিকপাল মানুষের কাছে ফ্যানের মতো সই সংগ্রহ করেছি, ওনারা আমার সামনেই যখন আমার কাজের প্রশংসা করেছেন মনে হয়েছে সত্যি গুণী মানুষদের একমাত্র পরিচয় বোদহয় তাদের নম্রতা। এয়ারপোর্টে bid adieu করার পর একটা অদ্ভুত অনুভূতি হল, যেন প্রকৃতির ঘরবাড়ি ছেড়ে আবার সেই কংক্রিটের জঙ্গলে প্রবেশ করলাম, যেখানে প্রতি পদে পদে কর্পোরেটের ধূর্ত জন্তুরা ওৎ পেতে বসে আছে। Icon Films এর Nike আর Claire এর সাথে এর পরেও যোগাযোগ রয়ে গেছে, অনেকবার কিছু wildlife সংক্রান্ত প্রতিবেদন অথবা কোনো ভারতীয় তথ্যচিত্রকারীর সন্ধান করে দিয়েছি। এরপরে অনেকবার সুন্দরবন যাওয়ার কথা ভাবলেও যেতে পারিনি, অবশেষে আমার মেয়ের তিন বছরের জন্মদিনের treat হিসেবে সপরিবারে প্রথম গেলাম। আমার মেয়েকে যখন দু বছরের পরে zoo তে নিয়ে গিয়ে দেখাই কিরকম বাঘকে খাঁচায় বন্দি অবস্থায় মানুষ জন্তুর মতো ব্যাবহার করছে আর এখন সে দেখলো বাঘের আসল বাড়ি যেখানে মানুষকে সন্তর্পনে সম্ভ্রমের সঙ্গে পা ফেলতে হয়!
My Wife, My Princess & My  Brother

Animal Planet | World's Deadliest Towns: The Land of Man-eating Tigers (2 episodes.)

A Glimpse of the Episode

Copyrighted to Animal Planet ( An Icon Film Production by Director Luke Wiles)

Friday, June 7, 2019

Hindi IMPosition : জয় হিন্দ ( নয় হিন্দি )

জয় হিন্দ ( নয় হিন্দি )

কথায় আছে জোর যার মুলুক তার। বর্তমানে নতুন সরকার ঠিকমতো সিংহাসনে বসতে না বসতেই নতুন বিতর্ক উজ্জাপন হয়েছে হিন্দি ভাষা সর্ব ভারতীয় সরকারি পাঠ্যক্রমে বাধ্যতামূলক করার খসড়া প্রকাশ্যে আসায়। গৈরিক দুরভিসন্ধি নিয়ে শুরু হয়েছে বুদ্ধিজীবী মহলে চাপানউতোর, ধিক্কার, প্রতিবাদ ও নানাবিধ তরজা বিশেষ করে দক্ষিণী রাজ্যগুলোতে আর আমাদের মোদের গরব মোদের আশা...আমরি বাংলায়। 

বাংলায় ( এখনো পশ্চিমবঙ্গ ) আমরা ছোটবেলা থেকেই অভ্যস্ত কোনো হিন্দিভাষী লোক দেখলেই হিন্দুস্থানী বলতে, যেন আমরা কেউ হিন্দুস্থানের বাসিন্ধা নই। আবার অনেকেই সচরাচর মুসলিমদের বিপরীত শব্দ বাঙালি বলে যেন মুসলিম সম্প্রদায় মাত্রই অবাঙালি ।এগুলো শুধু আমাদের মুদ্রা দোষ নয়, হিন্দি বলয় মানেই গো বলয় বা মোটা দাগের দেহাতি, খোট্টা, গারোয়ানী culture আর বাঙালি মানেই উচ্চ সংস্কৃতি এই শ্রেণী বিভেদ বা intellectual polarisation করা আমাদের জন্মগত অধিকার। 

নব্বুই দশকের আগে অবধি যাদের বাল্যকাল তারা অনেকেই জানেন যে হিন্দি সিনেমা দেখা অথবা হিন্দি গান আওড়ানো গড়পড়তা বাঙালি পরিবারে একপ্রকার অপসঙ্গস্কৃতি বলেই গ্রাহ্য হতো। অভিভাবকরাও একপ্রকার লুকিয়ে চুরিয়েই রঙ্গলি অথবা নুক্কডের মতো ধারাবাহিক দেখতেন। একমাত্র দূরদর্শনের ন্যাশনাল নিউজ সম্প্রচারের সময় রাশ কিছুটা আলগা ছিল। আম বাঙালির হিন্দির দৌড় বোঝা যেত স্টেশনে কুলি, জঙ্গল সাফ করতে মিতা, অথবা উড়ে জলের ভারির সাথে যখন দরকষাকষি চলত। শহরের স্কুল অথবা কনভেন্ট ছাড়া খুব কমই ছাত্রছাত্রীরা হিন্দিভাষী সহপাঠীর সাহচর্য পেত। হিন্দি medium কিছু স্কুলের ছাত্রদের সাথে একমাত্র খেলাধুলো ছাড়া মেলামেশায় বাড়ি থেকে চরম আপত্তি থাকতো। বাঙালি দম্ভের আস্ফালনে যখনই রাস্তা ঘাটে, ট্রেনে বাসে কোন হিন্দিভাষী জুটত তাকে নিয়ে খোরাখ একপ্রকার নিত্যনৈমিত্তিক ছিল। পাশের রাজ্য বিহারের বাসিন্দাদের আনাগোনা যত বাড়তে শুরু করলো বাঙালিও কিছুটা হিন্দি জাহির করতে অবজ্ঞা করেও অদ্ভুত উচ্চারণে বলতে শুরু করলো (bollywood এ বাঙালিদের কমিক রিলিফ )।

কয়েক যুগ পরে বর্তমানে দাঁড়িয়ে বাঙালি আজ হিন্দিভাষী সম্প্রদায়ের সাথে লড়াই করে জীবিকা নির্বাহ করছে। বাঙালি চিরকালই মেধা নির্ভর আর ব্রিটিশ আমল থেকে শ্রেষ্ঠ কেরানীগিরি পন্থা অবলম্বন করে বণিক অবাঙালি সম্প্রদায়কে ধান্দাবাজ বলে এসেছে (ভারতবর্ষে ধান্দা কথাটা একমাত্র বাঙলাতেই খারাপ অর্থে ব্যাবহার হয় )। একে একে শ্রম নির্ভর, কারিগরি শিল্প নির্ভর সমস্ত কাজে যখন অবাঙালীরা ( পড়ুন হিন্দিভাষী রা ) একাধিপত্য বিস্তার করে বাংলাতে জাঁকিয়ে বসেছে তখন আম বাঙালিরা সরকার কে দোষ দিয়ে, বিপ্লব দীর্ঘজীবী করে চাকরির জন্য হাহুতাশ করেছে। 

অনেক দিন পর্যন্ত বাংলায় শিল্প মানে বাঙালি শুধু কৃষ্টি, রবীন্দ্রসংগীত, গনেশ পাইন এসবি বুঝতো। তাদের যদি বাণিজ্যের ভবিষৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হতো, তারা বলতো যারা ক্লাসে টেনেটুনে পাস করে তারাই বাণিজ্য নিয়ে পড়ে দোকানে খাতা সারে অথবা ব্যবস্যা নাকি বাঙালির রক্তে নেই, ওর জন্য অনেক মূলধন লাগে। তারচেয়ে বরং কোনোক্রমে স্কুল টিচার হতে পারলে বা ভাগ্যক্রমে WBCS লাগাতে পারলেই life settled। এরপর এলো private engineering কলেজ আর ম্যানেজমেন্ট স্কুল যখন মেধার জোরে বাঙালি ভালো rank করে অন্য রাজ্যে অথবা বিদেশ পাড়ি দিলো আর বাংলায় আপাত কম rank এর অন্য রাজ্যের ছাত্ররা ভিড় করলো। এই সময়ের বাঙালিরা অনর্গল হিন্দি বলতেই বেশি সাচ্ছন্দ বোধ করে কারণ তাদের ক্যাম্পাসে একপ্রকার miniature ভারত, সেখানে আবার বেশি ইংলিশ কপচালে ট্যাশ বলে ragged হতে হবে। 

কথা হচ্ছিল সরকারি স্কুল নিয়ে কিন্তু এই চিত্রটা যদি দেখা যাক private CBSE, ICSE অথবা ইংরিজি মিডিয়াম সরকারি নাম করা স্কুলে অনেক দিন থেকেই 3rd language অথবা কিছু ক্ষত্রে 2nd language ( সেনা স্কুল )  হিন্দিকে ( সংস্কৃতকে নাকি backdated আর scope কম তাই option নেই ) সাচ্ছন্দেই গ্রহণ করছে সম্ভ্রান্ত পরিবারের বাঙালি সন্তানেরা। যুক্তি হলো, higher studies এর জন্য তো অন্য রাজ্যে যেতেই হবে, আবার যদি IPS, IAS এ বসে তখন কোথায় posting হয় ( ভারতে হিন্দি ভাষাটা 60% রাজ্যে সাধারণ মানুষ বোঝে ) অথচ মজার কথা সেই সন্তানের অভিভাবকেরা ( যারা সরকারি স্কুলের নামে নাক সিঁটকায় ) সামাজিক দেওয়াল ভরিয়ে শুধু বলছে হিন্দি জোর করে চাপিয়ে অপরিসীম ক্ষতি করতে চাইছে আমাদের প্রজন্মের, বাঙালি সত্তার ওপর কুঠারাঘাত বসাচ্ছে রাষ্ট্র। হিন্দি কোনো দিনই রাষ্ট্রিয় ভাষা ছিলনা যেমন সত্যি তেমনি এটা বাস্তব বাংলার বাইরে বেড়াতে গেলেও হিন্দি না উচ্চারণ করা দুস্কর। অবশ্যই বাংলা উচ্চারণে হিন্দি বলে কাজ চালন যেতেই পারে তার জন্য হিন্দি শেখাটা বাড়াবাড়ি মনে হতেই পারে, কিন্তু যে দেশের মানুষ যে common ভাষায় কথা বলে ( পৃথিবীর তিন নম্বর কথিত ভাষা ) তাকে কুপমন্ডুকের মতো দূরে সরিয়ে রেখে বাঙালির কি খুব লাভ হয়েছে ?? National arena তে হিন্দি না জানলে কলকে পাওয়া যায়না আর কেউ না বুঝুক আমাদের মাননীয়া বোঝেন, যার হিংলায় ভাষণের জন্য বাঙালিরা trolled হয়। প্রণব বাবুও একসময় বুঝেছেন যে আম ভারতীয়র কাছে পৌঁছতে হলে হিন্দিটা হিন্দির মতোই বলা প্রয়োজন, আর বাঙালির ইংলিশ surrogation সব স্তরে গ্রহনযোগ্য হয়না।শুধু ভাষাটাকে অবজ্ঞা করে কোনো বাঙালি বামপন্থী দেশকে lead করতে পারলোনা, কেরালিয়ানরা তবু ভাঙা ভাঙা বলে অযোগ্য হয়েও ছড়ি ঘোরালো। 

স্বাধীনতার আগে বোধহয় বাঙালি অনেক উদার মনস্ক ছিল তাই বলা হতো বাঙালিরা ভারতের চেয়ে একদিন এগিয়ে। স্বামী বিবেকানন্দ থেকে নেতাজি আসমুদ্র হিমাচল হিন্দিতেই ভাষণ দিয়েছেন। বিদ্যাসাগর থেকে রামমোহন বহু বিজাতীয় ভাষা শুধু শেখাই নয় রীতিমতো পন্ডিত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ হিন্দি dialect নিয়ে experiment শুধু নয় সাহিত্য সৃষ্টিও করেছেন। সমগ্র ভারতে আজ অবধি যে সব বাঙালি জনমানসে প্রভাব বিস্তার করেছেন সবাই হিন্দিতে খুবই সচ্ছল, সৌরভ গাঙ্গুলী থেকে মিঠুন চক্রবর্তী সবারই দেশ জোড়া ফ্যান। প্রবাসী বাঙালিরা যেখানে স্বকীয়তার সঙ্গে bollywood স্টার হবে, হিন্দিতে লিরিক্স লিখবে, কাব্য থেকে স্ক্রিপ্ট, direction সবে হিন্দি শেখার লাভ নেবে, বাংলার বাঙালিরা শুধু হিন্দি মানে গরক্ষকের ভাষা, অতি স্থূল ভাষা বলে বাংলাটাও ঠিকঠাক বলবেনা আর anglo বং status showoff করবে। গুজরাতি থেকে মারাঠিরা দেশ চালাবে হিন্দি করায়ত্ত করে আর বাঙালি ক্রমশ ছুৎ মার্গ করে দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে trolled হবে। দক্ষিণী রাজ্যে হিন্দি বিদ্বেষ অনেকদিনের কারণ সেখানকার আঞ্চলিক রাজনীতি থেকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি মানুষকে শুধু ভাষা দিয়ে তাদের একাধিপত্য বজায় রেখেছিল। কিন্তু নতুন প্রজন্মকে এখন হিন্দিতে সরগর হতেই হচ্ছে কারণ তাদের অন্য রাজ্যে জীবিকাসূত্রে যেতে হচ্ছে। এরকম অচলায়তন কিন্তু বাংলা “Liberal” মনস্কতার পরিপন্থী । বাংলার বাঙালি যেদিন হিন্দিতে জ্ঞানপিঠ পাবে অথবা বাঙালি নেতা যেদিন সারা দেশে হিন্দিতে ভাষণ দিয়ে মানুষকে মাতাবে যেভাবে এখন বাঙালি গায়কেরা সারা দেশে এত জনপ্রিয়, সেদিন বোধহয় এত হিন্দি নিয়ে রে রে করে না উঠে rationally ভাব্বে বাঙালি। বাঙালি হিন্দি শিখলে হিন্দি পড়াবার কত সর্বভারতীয় স্তরে শিক্ষকতার সুযোগ হতে পারে একটু চিন্তা করা যাক।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি কে হিন্দি শিক্ষা কখনোই challenge করতে পারবেনা বরং আমাদের চারপাশে এত হিন্দিভাষীদের বাংলায় থাকতে হলে বাংলা পড়তে হবে, বাংলা মনন বুঝতে হবে ( atleast তারাও বঞ্চিত হচ্ছে এত বড় ভান্ডার থেকে ) আর তখনই তারাও বাঙলা বলে গর্বিত হবে যাতে আমাদের তাদের সঙ্গে বাঙলাতেই কথা বলতে পারি। ব্রিটিশ উপনিবেশের ফলে যত ক্ষতিই হয়ে থাকুক, ভাষাজ্ঞানটাই লাভের লাভ হয়েছে যেটা সর্বজনবিদিত ( sorry মাঝখানে প্রাইমারি থেকে তুলে ক্ষতি হয়েছে কয়েকটা generation এর ). তাই ভাষা সন্ত্রাস বোধহয় নিজের ভাষাকে অনেক সমৃদ্ধ করে ( যে ভাবে আরবি, ফার্সি, এখন বাংলারি অঙ্গ ) তার জলজ্যান্ত প্রমান ইংলিশ ( ইউরোপিয়ান সমস্ত ভাষা থেকে উপনিবেশিক ভাষায় মিলেমিশে একাকার )। শেষে বলি যারা হিন্দু , হিন্দি, হিন্দুস্থান জুজুতে ভয় পাচ্ছ যেন আবার ভাষা আন্দোলনের সংকটের সামনে তাদের নিশ্চই অবগত আছে যে এই মুহূর্তে Hongkong এর cantonese ভাষা আন্দোলন কিভাবে দমন করা হচ্ছে। ( Chinese Mandarin চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে কারণ communism এক জাতি, এক প্রাণ, এক ভাষায় বিশ্বাসী ) হিন্দিকে common language for communication মানতে কি অসুবিধে যখন তা গণ্য হয় বিশ্বের দরবারে ( ফ্রেঞ্চ, জার্মান, চীন বা লাতিন দেশনায়কের মতো UN অথবা বিদেশে যেখানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশীয় হিন্দিতেই প্রতিনিধিত্ব করেন তাঁর মাতৃভাষা গুজরাটি কে বিন্দুমাত্র খাটো না করে ) 

জয় বাংলা ( conjunctivitis নয় ) 

প্রত্যয় সুর

Friday, March 8, 2019

যুদ্ধ চাই না নিয়ে যত্ত যুদ্ধ

আজ প্রচুর মানুষকে অর্জুনের মতো অসহায় মনে হচ্ছে। কৌরবকুলের মতো জঙ্গিরাও মানুষ, তারাও বিশ্ব পরিবারের সদস্য। যুদ্ধ সত্যই কি কোনো সমাধান? নাকি সত্য প্রতিষ্ঠা করার শ্রেষ্ঠ উপায় মৈত্রীচুক্তি সেই ধৃতরাষ্ট্রের সঙ্গে যে একাধারে পুত্রস্নেহে অন্ধ অন্যদিকে কূটনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে শান্তির আবাহক। টেরোরিস্ট কেউ জন্মেই হয়না, অনেকেরই মত হলো আর্থসামাজিক বঞ্চনার ও পরাধীনতার আনুকূল্যে এই প্রবণতা হয়তো সবার মধ্যেই লালিত হয়। French বিপ্লবই হোক আর Colonial সাম্রাজ্যের স্বাধীনতা সংগ্রামী, terrorist আক্ষাই জুটেছে এই সব বিপ্লবীদের, শাসকের ইতিহাসে। Marxist বা Maoist মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে ও পুঁজিবাদী শক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিপ্লবের ওপর নাম Left terrorism দক্ষিণপন্থীদের অভিধানে। আধুনিক কালে আমরা ধর্মীয় চরমপন্থী বা কোনো সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর উগ্রপন্থার শিকার। নতুন কিছু নয় যদিও, আর্য অনার্জের দ্বন্ধ থেকে holy crusade অবশেষে ইসলামিক radical উগ্রপন্থী গোষ্ঠী সবাই ধর্মের নামে মানুষকে শাসন করতে চায়। সাম্প্রতিককালে terrorism একটা সংগঠিত industry, যা বিশ্ব যুদ্ধ বাজারের সবচেয়ে বড় influencer, সেই দিক থেকে ভয় কারখানা আজ মানুষের দুর্বল কিছু identity কে surrogate করে সমগ্র সমাজ কোষে পচন ধরাচ্ছে।

একটা উপজীব্য বিষয় হল যে terrorism কখনই জ্ঞান, অর্থ, মতাদর্শ বা বিজ্ঞান এসবের অভাবে জন্ম নেয় না বরং কারণটা ঠিক বিপরীত। আদপে দেখা যাবে সাধারণ খেটে খাওয়া মজুর, শ্রমিক বা চাষী কোনো ism নিয়ে মাথা ঘামায় না, সরল সমাধানে ও জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে মেতে থাকে অনেক না পাওয়াতেও। প্রকৃতির শিক্ষা সম্বল করে যাদের আমরা বঞ্চিত, অবহেলিত, অজ্ঞ, নিরেট ভাবি তাদের আনন্দ ও দুঃখ অনেক নির্ভেজাল, কোনো intellectual গোঁড়ামির দাসত্ব নেই। ওসামা বিন লাদেন, কোটিপতি ঘরের ছেলে, তার Civil engineering প্রজ্ঞা কাজে এসেছে twin tower এর ঠিক কোন জায়গায় আঘাত করলে সেই বিশাল ইমারত ধূলিসাৎ হবে সেই পরিকল্পনায়। ভারতের স্বাধীনতার পরে এ যাবৎ মাও সন্ত্রাসে যত মানুষ ও রাষ্ট্রিয় সম্পত্তির ক্ষতিসাধন হয়েছে তা কোনো অশিক্ষিত অপরাধীর এলেমে হয়নি। পৃথিবীর ইতিহাসে যখনই মানুষ কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে শুধু শর্তহীন আনুগত্য চেয়েছে মানুষের ব্যাক্তিগত সংস্কার উপেক্ষা করে তখনই terrorism প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।

তাহলে কি শিশুপাল বদের মত একশ শতাংশ পাপ না হওয়া অবধি আমাদের সয়ে যেতে হবে? আজ কা অর্জুন কি তাহলে ফলের আশা না করে ধর্মযুদ্ধ করবে? অন্তর্জলি যাত্রা অবশ্যম্ভাবী কারণ সেই রামের আমল থেকেই প্রজাকে সন্তুষ্ট করা আসলে শাঁখের করাত। যে রাষ্ট্রকে প্রতিবারই যুদ্ধে বাধ্য করা হয়েছে তার নাগরিকরাই বেশি সরব হয় যখন civilian casualty এড়িয়ে শুধু জঙ্গি ঘাঁটি সংহার করেও রাষ্ট্র খলনায়ক হয়ে যায়। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রই পারে এমন উদারতার চাষ করতে। এই মাটির proverbial রাজাকে যখন প্রজার আবদারে নিজের স্ত্রী কেও অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়, পুত্রের সাথেও সমরে উদ্যত হতে হয় সেখানে পরম্পরা মেনেই রাজঘর্ম পালনে উচিত অনিচ্ছুক ভারতীয়দের জন্যই subsidized 1st class citizenship যুগ যুগ ধরে বহাল রাখা যাতে তারাই পাথর ছুড়ে, শত্রু সঙ্গদে নিরীহ মানুষ মেরেও রাষ্ট্রকে মানবাধিকারের কাঠগড়ায় তুলতে পারে।

আজ আমরা যারা সামাজিক দেওয়াল ভরিয়ে মতামতের বন্যা বইয়ে দিচ্ছি তারা না ঘর কা না ঘাট কা। না আমরা সর্বহারা, না আমরা রাজা উজির, তাই মাঝবরাবর থেকে অন্ধের হস্তীদর্শন করছি মাত্র। যারা যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য তিল তিল করে নিজেদের তৈরি করেছে, সমস্ত প্রতিকূলতা যার জীবনসঙ্গী, সতীর্থদের জীবন কিছু কাপুরুষের হাতে যেতে দেখলে কি বলবে ‘ যুদ্ধ নয় শান্তি চাই ’। দাস ক্যাপিটাল পড়ে কিছু ক্যাপিটালের দাস বলবে যুদ্ধ হলো রাষ্ট্রের killing machinery, এদিকে যখন একজন সদ্য সন্তান হারানো সৈনিকের বাবা চাইবে তার নাতিও যেন যুদ্ধে যাক তারাই হাততালি দেবে। আসলে ইউরোপের মানুষ যারা যুদ্ধকে প্রকৃত ঘৃণা করে তারা ভুক্তভুগি কারণ খুঁজলে প্রত্যেকেরি পরিবার বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত বহন করছে। আমরা যারা যুদ্ধ যুদ্ধ করছি দেখা যাবে বেশিরভাগই PUBG addict অথবা হলিউডি কপ্পলা, স্পিলবার্গ বা টারান্টিনো ভক্ত। উগ্র দেশপ্রেম যাদের দ্বেষের উৎস বা নেতা বন্ধনায় মত্ত তাদের বোধহয় emotion টা genuine অন্তত hypocritical নয়। আবার একদল মায়া মমতা বিসর্জন দিয়ে স্তিতপজ্ঞ হয়ে বলছে অফিসে বসের গালাগালি, বাসে ঠেলাঠেলি, র বাড়িতে বউয়ের বাওয়ালি সামলাচ্ছি, আর সৈন্যরা এইটুকু পারবেনা? দবচেয়ে ভয়ঙ্কর সম্প্রদায় হলো একদল রাজনৈতিক নাস্তিক যাদের অবিশ্বাসী মন বলছে পুরোটাই got up, মহাজাগতিক ষড়যন্ত্র, একটু খুঁজলে দেখা যাবে যারা আজ শত্রুপক্ষ তারাই আসলে মিত্র, আমরা জাতীস্বর। এত কিছুর ভিড় ঠেলে কিছু extra-terrestrial জীব বিন্দাস ঘোরাফেরা করছে, তর্কে নেই, আলোচনায় অরুচি শুধু NIFTY ওঠাপড়ায় পাত পেড়ে বসে আছে। আমি বোধহয় সেই দলে পড়ি যারা চারদিক দেখে, শুনে বুঝে, না বুঝে মাঝে মাঝে হাত নিসপিস করে, মুখ চুলকয় আর অবশ্যই দিনব্যাপী unprodictive পাবলিক transport এ আঙুল চোখ ও মস্তিস্ক সহযোগে একটা মুখবুক ( Facebook ) ব্যঞ্জন তৈরি করে ভালোলাগা গুনি। 

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, যুদ্ধ চিরশান্তি দেয় তাই আপত্তি।

: প্রত্যয় সুর

Sunday, February 17, 2019

গোড়ায় গলদ ( Crux of Crisis )


হিন্দুত্ব কখনোই কোনো ধর্ম নয় একটা সভ্যতা। হিন্দুস্থানের নানা মুনি নানা মতের সরলীকরণ করতে ব্রিটিশ দের শীল মোহরেই প্রথম হিন্দু বলে কোনো ধর্ম হিসেবে গণ্য হয়। ব্রিটিশ দার্শনিকরা ধর্ম শব্দটার মাহাত্য বোঝেনি। যা ধারণ করে বা আমাদের প্রকৃত আধার ( Adhaar কার্ড নয় ) তা কখনো religion এর সমার্থক হতে পারেনা। জলের ধর্ম গড়িয়ে পড়া হলে english এ এটা জলের property not religion। সেবাই মানব ধর্ম হলে হিন্ধু একই অর্থে কিকরে ধর্ম হয়? তারমানে তথাকথিত religion বলতে হিন্ধু বুঝলেও আমরা কিন্তু ভিন্ন ধর্মের। আমাদের সভ্যতায় ধর্ম র সঙ্গে অধর্ম র প্রভূত গুরুত্ব আছে যেখানে স্পষ্ট আমরা যখন আমাদের স্বকীয় গুণের বিরুদ্ধাচারণ করি বা সত্যে ( সনাতন ধর্মে সত্যেই শ্রেষ্ট ) থেকে বিচ্যুত হই তখনই বুঝি সেটা অধর্ম। কিন্তু সেই অর্থে anti-religion, অথবা non-religion বলে কিছুই হয়না। স্বাধীনতার ইতিহাসে অনেক জল বয়ে গেছে, ভারতে অনেক বহীরাগত সম্প্রদায়, গোষ্ঠী, লুটেরা, বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যবাদী সবাই আমদানি করেছে তাদের নিজস্ব শাসন কৃষ্টি ও সভ্যতার সংজ্ঞা কিন্তু ভারতীয় ভাব সাগরে নয় তলিয়ে গেছে অথবা ছোট ডিঙি নিয়ে ক্রমাগত ঢেউয়ের মোকাবিলায় সংগ্রাম করেছে।

 দেশ বিভাজনের মাধ্যমে যখন আমাদের এক দুর্বল স্বাধীনতার ভিক্ষা মেলে আমরা তখন ব্যস্ত হয়ে পড়ি পৃথিবীর নব্য মতবাদ থেকে চয়ন করে একটা নতুন ভারতের নির্মাণ করতে যেখানে প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্য ততটাই স্থান পায় যতটা ব্রিটিশ, ফ্রেঞ্চ, জার্মান দার্শনিকদের বোধগম্য হওয়া রচনায়, কারণ আমাদের প্রথম সারির নায়কেরা ইউরোপীয় শিক্ষায় ও ভাবধারায় অনুপ্রাণিত। চিরতরের জন্য দাখিল হয় কিছু imported term যেমন rule of law, secularism, communal harmony, tolerance, ইত্যাদি। সাম্প্রদায়িক কথাটা মানে যে কোনো ব্যাক্তিসমষ্টি যারা একই মতবাদ পোষণ করে, তার মানে Congress, CPM, BJP, TMC এরাও তো এক একটা সম্প্রদায়, শুধু মুসলিম শিখ  ক্রিষ্টান নয়। মানুষ আজ কাল বলছে tolerance কমে গেছে বিগত কিছুদিন। আসলে হিন্দুস্থানে tolerance কথাটা ছিলই না তাই এর সঠিক ভারতীয় version নেই। আসলে আমাদের জন্মস্থানে চিরকালই প্রত্যেক মানুষের চূড়ান্ত স্বাধীনতা ছিল নিজের আরাধ্য ইষ্ট চয়ন করার তাই তেত্রিশ কোটি দেব দেবী, হয়তো তখনকার তাই জনসংখা ছিল যখন থেকে এই কথাটার উৎপত্তি। জানিনা আমরা কি একে অপরকে tolerate করবো? 

সত্যি কথাটা হলো বারংবার বহিঃ আক্রমণে জর্জরিত হয়েও আমরা জীবন থেকে আমাদের dna থেকে অতিথি দেব ভবঃ র মতো সংস্কার ভুলিনি তা সে যতই ব্রিটিশ, মার্ক্স, মোহম্মদ এর দ্বারা অনুপ্রাণিত হই আমরা। সুফিরা একমাত্র ভারতেই নিরাপদ, বাউলদের সংগীত ই একমাত্র ধর্ম। ব্রিটিশ এসে আমাদের দাসত্ব করতে genetically মজ্জাগত করেছে, মার্ক্সীয় পাঠ পরে আমরা একটা intellectual status পেয়েছি যাতে আমাদের ভাবনা হয়েছে তথাকথিত science সিদ্ধ হলেই চোখ বুজে বিস্বাস করা যায় আর spiritual science নাকি সোনার পাথরবাটি। বিবেকানন্দ যখন তীব্র ভৎসনা করছেন তখনকার গরক্ষকদের তখন তিনি পথিকৃৎ আবার যখন বলছেন জগতে সবই লৌকিক, বা জন্মান্তর সত্য তখনই উনি ভন্ড। 

আমরা আজও ভারতীয় ঐতিহ্যে বিস্বাস রাখতে পারিনা যতক্ষন না পশ্চিমি বিশ্বের প্রভুরা তকমা দেন, এই ধ্রুব সত্যতা বারংবার প্রমাণিত করেছেন, বিবেকানন্দ, যোগানন্দ, শ্রীল প্রভুপাদ, থেকে এখনকার অনেক যোগীপুরুষ। Beatles এর Sgt. Peppers Album cover এ যখন ভারতীয় যোগীদের দেখা যায়, Job Charnok ( কলকাতার কারিগর ) থেকে George Harrison ( প্রবাদপ্রতিম বিটল সের গায়ক ), Alfred Ford ( ফোর্ড মোটর্সের চেয়ারম্যান ), Julia Roberts ( হলিউড অভিনেত্রী) থেকে প্রচুর স্বনামধন্য scientist, philosopher, writer,নানাবিধ বুদ্ধিজীবী যখন সনাতন হিন্দুধর্মের আশ্রয় নিয়েছেন, তখনো আমরা যুক্তি সাজাই এনারা ধর্মীয় প্রোপাগান্ডার স্বীকার।

 ইদানিং কালের বিশ্বের দুই সবচেয়ে প্রভাবশালী কোম্পানির জনক নিজেরাই স্বীকার করেছেন কিভাবে হিন্দুভাবধারা তাদের প্রতিষ্ঠিত ও পুষ্ট করেছে। স্টিভ জোবস ( Apple Inc কর্ণধার) ভারতীয় যোগীর লেখা পৃথিবীর ইতিহাসে ১০০ বেস্টসেলারের অন্যতম ( যোগিকথামৃত: Autobiography of a Yogi ) পড়ে এতটাই মুগ্ধ যে উনি প্রায় জীবনের পঁচিশ বছর প্রত্যেকবার পড়েছেন। শুধু তাই নয়, ওনার ক্যান্সারে মৃত্যুর পর উনি আমেরিকার বিশিষ্ট সবাইকে অগ্রিম ওনার funeral এ নিমন্ত্রণ করে যান, তাদের জন্য উপহার হিসেবে একটা কালো সুন্দর বাক্স ছিল ( যেমন Apple প্রোডাক্ট case), সবাই ভেবেছিলেন কোনো অত্যাধুনিক apple গ্যাজেট হবে কিন্তু খুলে এই বইটি পান। গুগলের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় কোম্পানি ফেসবুকের জনক Mark Zukerberg স্বীকার করেন তিনি যখন খুব খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, প্রায় কোম্পানি বেচে দেওয়ার উপক্রম তখনই Steve Jobes এর অনুপ্রেরণায় উত্তর ভারতের এক অতি অনামী আশ্রম ( নিম করোলি বাবার নামে ) ভ্রমণ করেন তারপর তো আমরা সবাই জানি তিনি আজ কোথায়। বারংবার যখন সেই নিউটনের সময় থেকেই পশ্চিমের দার্শনিক থেকে বিজ্ঞানীরা আমাদের অমূল্য বেদ পুরান, উপনিষদ, বিবিধ গ্রন্থের পাঠোদ্ধার করতে তার নির্যাস বুঝতে সংস্কৃত শিখেছেন আমরা অবহেলা করে ব্রিটিশ ঐতিহাসিকের colonial ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে নিজেদের গৌরবান্বিত ইতিহাসকে ভুলেগেছি। ভারতের স্বাধীনতার আগে যত মনীষীর সমাগম হয়েছে তাঁদের সবারই উৎস আমাদের প্রাচীন সভ্যতার ভীত। ব্রিটিশরা যতনা আমাদের আত্মবিস্মৃতি ঘটিয়েছে আমাদের স্বাধীন ভারতে তার চেয়ে বেশি ক্ষতিস্বাধন করেছে আমাদেরই দেশীয় নেতারা যারা স্বজাতি হওয়ার সুবাদে তাদের পরাধীন পরাশ্রয়ী মানসিকতা বাম বা ডানপন্থার মোড়কে আমাদের slow poison করে স্বার্থসিদ্ধি করেছে আর ব্রিটিশ divide & rule পৃষ্ঠপোষকতা করেছে বিদেশি শক্তির অঙ্গুলিহেলনে।

রবীন্দ্রনাথ কে আইনস্টাইন বলেছিলেন যে আপনার থেকে আমি অনেক অর্থে ধার্মিক যখন ব্যাখ্যা করেন " আমারই চেতনার রঙে পান্না হলো সবুজ...."। সেই রবীন্দ্রনাথই কিন্তু আমাদের সুপ্রাচীন সভ্যতা বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের সাবধান করে দেন : "There are two religions on the earth, which have distinct enmity against all other religions. These two are Christianity and Islam. They are not satisfied with just observing their own religions, but are determined to destroy all other religions. That’s why the only way to make peace with them is to embrace their religion.” বিবেকানন্দ যিনি শুধু হিন্দু সভ্যতার ( হিন্দু religion নয় ) পুররুদ্ধারের জন্য সাম্প্রদায়িক শক্তি বা semitic ধর্মের দুরভিসন্ধির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন: “The more selfish a man, the more immoral he is. And also with that race which is bound down to itself has been the most cruel and the most wicked in the whole world. There has not been a religion that has clung to this dualism more than that founded by the Prophet of Arabia (Mohammed), and there has not been a religion (Islam) which has shed so much blood and been so cruel to other men. In the Koran there is the doctrine that a man, who does not believe these teachings, should be killed; it is mercy to kill him! And the surest way to get to heaven, where there are beautiful ‘houries’ and all sort of sense-enjoyments, is by killing these unbelievers. Think of the bloodshed there has been in consequence of such beliefs (Islam)!”
[The speech delivered by Swami Vivekananda in London on 18th Nov.1896]. 

আসলে মানুষ তার সংস্কার দ্বারা প্রভাবিত হলেও একমাত্র আধ্যাতিক অন্নেষণই তাকে সব গন্ডির ঊর্ধ্বে নিয়ে যায় তাই বলবো ভারত আসলে সেই spiritual entity বহন করছে যুগের পর যুগ ধরে সেখানে চিরকালই বহুত বা নিজ নিজ মতবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে, এত বেদ পুরান সবই মানুষের সেই অতি ব্যাক্তিগত উপলব্ধি থেকে সনাতন সত্য কে খুঁজেছে। নাস্তিক ( চার্বাক), আস্তিক একিস্বরবাদী পৌত্তলিক সবাই এই হিন্দু সভ্যতার ই অঙ্গ। আমাদের পরম্পরায় ব্যাক্তিগত ইস্ট ( ism ) পালন ও প্রচারের অধিকার সবারই আছে।যেই অর্থে কাজী নজরুল ইসলাম মুসলিম হলেও যখন তিনি অবলীলায় শ্যামাসংগীত বা রাধা কৃষ্ণের ভক্তিগীতি লিখে মানুষকে মাতাতে পারেন তখন তিনি প্রকৃতার্থে হিন্দু। প্রকৃত হিন্দু হয়ে উঠতে হলে সেখানে কোনো সংকীর্ণতারি স্থান নেই। Religion সেই অর্থে কারুর না থাকলে আমরা যেন আবেদন করি other sex এর মত religion এর জায়গায় সনাতন ধর্ম অথবা পার্সোনাল (ব্যাক্তিগত, নিরপেক্ষ নয় কারণ সেরকম কিছু হয়না ) একটা অপশন করা হোক। নাম বা পদবি থেকে ধর্ম, সম্প্রদায়, জাতি, লিঙ্গ সব বিশ্লেষণ করে আমাদের রোজি না না সামাজিক বিভাজনে বিভক্ত করা হচ্ছে, জানিনা একদিন আসবে আমাদের ও code থাকবে হয়তো তখন আরো সূক্ষ্ম বিভাজনে আমাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে classify করা হবে, হয়তো সেদিনের কথা ভেবে আমাদের নিজেদেরই দরকার পড়বে আত্ম অন্নেষণের যেখানে সবটাই subjective truth, কোনো ভেদাভেদ বৈরী নেই সবারই এক লক্ষ্য: অনন্তে বিলীন।


:প্রত্যয় সুর