আজ প্রচুর মানুষকে অর্জুনের মতো অসহায় মনে হচ্ছে। কৌরবকুলের মতো জঙ্গিরাও মানুষ, তারাও বিশ্ব পরিবারের সদস্য। যুদ্ধ সত্যই কি কোনো সমাধান? নাকি সত্য প্রতিষ্ঠা করার শ্রেষ্ঠ উপায় মৈত্রীচুক্তি সেই ধৃতরাষ্ট্রের সঙ্গে যে একাধারে পুত্রস্নেহে অন্ধ অন্যদিকে কূটনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে শান্তির আবাহক। টেরোরিস্ট কেউ জন্মেই হয়না, অনেকেরই মত হলো আর্থসামাজিক বঞ্চনার ও পরাধীনতার আনুকূল্যে এই প্রবণতা হয়তো সবার মধ্যেই লালিত হয়। French বিপ্লবই হোক আর Colonial সাম্রাজ্যের স্বাধীনতা সংগ্রামী, terrorist আক্ষাই জুটেছে এই সব বিপ্লবীদের, শাসকের ইতিহাসে। Marxist বা Maoist মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে ও পুঁজিবাদী শক্তিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিপ্লবের ওপর নাম Left terrorism দক্ষিণপন্থীদের অভিধানে। আধুনিক কালে আমরা ধর্মীয় চরমপন্থী বা কোনো সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীর উগ্রপন্থার শিকার। নতুন কিছু নয় যদিও, আর্য অনার্জের দ্বন্ধ থেকে holy crusade অবশেষে ইসলামিক radical উগ্রপন্থী গোষ্ঠী সবাই ধর্মের নামে মানুষকে শাসন করতে চায়। সাম্প্রতিককালে terrorism একটা সংগঠিত industry, যা বিশ্ব যুদ্ধ বাজারের সবচেয়ে বড় influencer, সেই দিক থেকে ভয় কারখানা আজ মানুষের দুর্বল কিছু identity কে surrogate করে সমগ্র সমাজ কোষে পচন ধরাচ্ছে।
একটা উপজীব্য বিষয় হল যে terrorism কখনই জ্ঞান, অর্থ, মতাদর্শ বা বিজ্ঞান এসবের অভাবে জন্ম নেয় না বরং কারণটা ঠিক বিপরীত। আদপে দেখা যাবে সাধারণ খেটে খাওয়া মজুর, শ্রমিক বা চাষী কোনো ism নিয়ে মাথা ঘামায় না, সরল সমাধানে ও জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে মেতে থাকে অনেক না পাওয়াতেও। প্রকৃতির শিক্ষা সম্বল করে যাদের আমরা বঞ্চিত, অবহেলিত, অজ্ঞ, নিরেট ভাবি তাদের আনন্দ ও দুঃখ অনেক নির্ভেজাল, কোনো intellectual গোঁড়ামির দাসত্ব নেই। ওসামা বিন লাদেন, কোটিপতি ঘরের ছেলে, তার Civil engineering প্রজ্ঞা কাজে এসেছে twin tower এর ঠিক কোন জায়গায় আঘাত করলে সেই বিশাল ইমারত ধূলিসাৎ হবে সেই পরিকল্পনায়। ভারতের স্বাধীনতার পরে এ যাবৎ মাও সন্ত্রাসে যত মানুষ ও রাষ্ট্রিয় সম্পত্তির ক্ষতিসাধন হয়েছে তা কোনো অশিক্ষিত অপরাধীর এলেমে হয়নি। পৃথিবীর ইতিহাসে যখনই মানুষ কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে শুধু শর্তহীন আনুগত্য চেয়েছে মানুষের ব্যাক্তিগত সংস্কার উপেক্ষা করে তখনই terrorism প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে।
তাহলে কি শিশুপাল বদের মত একশ শতাংশ পাপ না হওয়া অবধি আমাদের সয়ে যেতে হবে? আজ কা অর্জুন কি তাহলে ফলের আশা না করে ধর্মযুদ্ধ করবে? অন্তর্জলি যাত্রা অবশ্যম্ভাবী কারণ সেই রামের আমল থেকেই প্রজাকে সন্তুষ্ট করা আসলে শাঁখের করাত। যে রাষ্ট্রকে প্রতিবারই যুদ্ধে বাধ্য করা হয়েছে তার নাগরিকরাই বেশি সরব হয় যখন civilian casualty এড়িয়ে শুধু জঙ্গি ঘাঁটি সংহার করেও রাষ্ট্র খলনায়ক হয়ে যায়। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্রই পারে এমন উদারতার চাষ করতে। এই মাটির proverbial রাজাকে যখন প্রজার আবদারে নিজের স্ত্রী কেও অগ্নিপরীক্ষা দিতে হয়, পুত্রের সাথেও সমরে উদ্যত হতে হয় সেখানে পরম্পরা মেনেই রাজঘর্ম পালনে উচিত অনিচ্ছুক ভারতীয়দের জন্যই subsidized 1st class citizenship যুগ যুগ ধরে বহাল রাখা যাতে তারাই পাথর ছুড়ে, শত্রু সঙ্গদে নিরীহ মানুষ মেরেও রাষ্ট্রকে মানবাধিকারের কাঠগড়ায় তুলতে পারে।
আজ আমরা যারা সামাজিক দেওয়াল ভরিয়ে মতামতের বন্যা বইয়ে দিচ্ছি তারা না ঘর কা না ঘাট কা। না আমরা সর্বহারা, না আমরা রাজা উজির, তাই মাঝবরাবর থেকে অন্ধের হস্তীদর্শন করছি মাত্র। যারা যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য তিল তিল করে নিজেদের তৈরি করেছে, সমস্ত প্রতিকূলতা যার জীবনসঙ্গী, সতীর্থদের জীবন কিছু কাপুরুষের হাতে যেতে দেখলে কি বলবে ‘ যুদ্ধ নয় শান্তি চাই ’। দাস ক্যাপিটাল পড়ে কিছু ক্যাপিটালের দাস বলবে যুদ্ধ হলো রাষ্ট্রের killing machinery, এদিকে যখন একজন সদ্য সন্তান হারানো সৈনিকের বাবা চাইবে তার নাতিও যেন যুদ্ধে যাক তারাই হাততালি দেবে। আসলে ইউরোপের মানুষ যারা যুদ্ধকে প্রকৃত ঘৃণা করে তারা ভুক্তভুগি কারণ খুঁজলে প্রত্যেকেরি পরিবার বিশ্বযুদ্ধের ক্ষত বহন করছে। আমরা যারা যুদ্ধ যুদ্ধ করছি দেখা যাবে বেশিরভাগই PUBG addict অথবা হলিউডি কপ্পলা, স্পিলবার্গ বা টারান্টিনো ভক্ত। উগ্র দেশপ্রেম যাদের দ্বেষের উৎস বা নেতা বন্ধনায় মত্ত তাদের বোধহয় emotion টা genuine অন্তত hypocritical নয়। আবার একদল মায়া মমতা বিসর্জন দিয়ে স্তিতপজ্ঞ হয়ে বলছে অফিসে বসের গালাগালি, বাসে ঠেলাঠেলি, র বাড়িতে বউয়ের বাওয়ালি সামলাচ্ছি, আর সৈন্যরা এইটুকু পারবেনা? দবচেয়ে ভয়ঙ্কর সম্প্রদায় হলো একদল রাজনৈতিক নাস্তিক যাদের অবিশ্বাসী মন বলছে পুরোটাই got up, মহাজাগতিক ষড়যন্ত্র, একটু খুঁজলে দেখা যাবে যারা আজ শত্রুপক্ষ তারাই আসলে মিত্র, আমরা জাতীস্বর। এত কিছুর ভিড় ঠেলে কিছু extra-terrestrial জীব বিন্দাস ঘোরাফেরা করছে, তর্কে নেই, আলোচনায় অরুচি শুধু NIFTY ওঠাপড়ায় পাত পেড়ে বসে আছে। আমি বোধহয় সেই দলে পড়ি যারা চারদিক দেখে, শুনে বুঝে, না বুঝে মাঝে মাঝে হাত নিসপিস করে, মুখ চুলকয় আর অবশ্যই দিনব্যাপী unprodictive পাবলিক transport এ আঙুল চোখ ও মস্তিস্ক সহযোগে একটা মুখবুক ( Facebook ) ব্যঞ্জন তৈরি করে ভালোলাগা গুনি।
যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, যুদ্ধ চিরশান্তি দেয় তাই আপত্তি।
: প্রত্যয় সুর
